হাকিমপুরে প্রথমবারেই ‘কালোসোনা’ চাষে বাজিমাত
দিনাজপুরের হাকিমপুরে পেঁয়াজ আমদানির নির্ভরতা কমাতে ও স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে প্রথমবারের মতো ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ বা কালোসোনা খ্যাত পেঁয়াজ বীজ চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা গোলাম মোস্তফা। তার এই সাফল্য দেখে এখন এই অঞ্চলের অনেক প্রান্তিক কৃষকই পেঁয়াজ বীজ চাষের স্বপ্ন দেখছেন। স্থানীয় কৃষি অফিসের মতে, এখানকার আবহাওয়া ও মাটি বীজ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত অনুকূল।
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। দিগন্তজোড়া মাঠে আড়াই ফুট লম্বা সবুজ গাছে ফুটে আছে সাদা সাদা গোলাকৃতির ফুল। পূবালি বাতাসে দোল খাচ্ছে সেই ফুলগুলো, যা থেকে কয়েকদিনের মধ্যেই সংগ্রহ করা হবে কুচকুচে কালো বীজ। বাজারে এই বীজ প্রতি কেজি ২ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয় বলে একে ‘কালোসোনা’ হিসেবে অভিহিত করেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, হাকিমপুরে যেখানে পেঁয়াজের চাষই হতো যৎসামান্য, সেখানে বীজ উৎপাদন ছিল অকল্পনীয়। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন গোলাম মোস্তফা। তার এই ভিন্নধর্মী চাষ দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে কৌতূহলী মানুষ ভিড় করছেন।
সফল উদ্যোক্তা গোলাম মোস্তফা জানান, সাহস করে প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের চেষ্টা করেছি ও সফল হয়েছি। মাঠে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এখন আর প্রাকৃতিক মৌমাছি বা উপকারী পোকা আসে না, তাই আমি নিজ হাতেই কৃত্রিমভাবে পরাগায়ন করছি। আমার এই উদ্যোগ দেখে অনেকেই পরামর্শ নিচ্ছেন। সবাই এগিয়ে এলে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ হবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমবে।
উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিব ইসলাম জানান, সাধারণ পেঁয়াজ চাষের চেয়ে বীজ উৎপাদন কিছুটা ভিন্ন ও শ্রমনির্ভর। বিশেষ করে সঠিক সময়ে হাত দিয়ে পরাগায়ন নিশ্চিত করা এবং রোগ-বালাই দমনে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোছা. আরজেনা বেগম জানান, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সরকারি কৃষি প্রণোদনার আওতায় এই বীজ চাষ করা হচ্ছে। বর্তমানে বীজগুলো পরিপক্ক হয়েছে এবং কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আগামীতে এ অঞ্চলের কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে সক্ষম হবেন।

জাহিদুল ইসলাম, হিলি