মৃত্যুর পর সম্মাননা চান না জাভেদের স্ত্রী
বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের কিংবদন্তি চিত্রনায়ক ও নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে গেল বুধবার না ফেরার মারা যান। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তাঁর স্ত্রী, চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরী।
স্বামীর মৃত্যুর পর শোকাহত ডলি চৌধুরী একাধিক সাক্ষাৎকারে ইলিয়াস জাভেদের জীবদ্দশায় স্বীকৃতি না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মৃত্যুর পর কোনো সম্মাননা বা স্বীকৃতি গ্রহণ করতে চান না তিনি।
ডলি চৌধুরী বলেন, ‘জাভেদ যা করেছে, তার বিনিময়ে আমি আর কোনো স্বীকৃতি চাই না। আমি এসব প্রত্যাখ্যান করছি। কোনো পুরস্কার, কোনো সম্মাননা আমি চাই না। শুধু তার জন্য দোয়া করবেন যেন আল্লাহর তাকে মাফ করে দেন। যদি সম্মাননা দেওয়া হয়, আমি সেটা কখনো গ্রহণ করব না।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য তিনি যে অবদান রেখে গেছেন। জীবিত অবস্থায় যদি তাঁর মূল্যায়ন না করা হয়, যদি তাঁর কর্মস্থল থেকেই তাঁকে সম্মান না দেওয়া হয়, তাহলে তিনি মারা যাওয়ার পর এসব সম্মাননা দিয়ে কী হবে? মৃত্যুর পর এসব দিয়ে তাঁর কী হবে? তাই এগুলোর দরকার নেই। আপনার শুধু দোয়া করবেন। এটাই আমি চাই।’
১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’র মাধ্যমে নায়ক হিসেবে সিনেমায় অভিষেক হয় জাভেদের। এরপর প্রায় দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি একজন নৃত্য পরিচালকও ছিলেন তিনি।
নৃত্য পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক হলেও পরে নায়ক হিসেবে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শতাধিক সিনেমায়। নানা কাজের মধ্যে ‘নিশান’ সিনেমার জন্য অধিক পরিচিত তিনি। তার অভিনীত কাজের মধ্যে রয়েছে ‘মালেকা বানু’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’।
১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে (পাকিস্তান) জন্মগ্রহণ করেন জাভেদ। পরে স্বপরিবারে সেখান থেকে পাঞ্জাব চলে যান। ব্যক্তিজীবনে ১৯৮৪ সালে চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে জড়ান এ অভিনেতা।

বিনোদন ডেস্ক