সুরের ভেতর জীবন খোঁজেন এমিল আজাদ
স্বতন্ত্র সুর ও গল্পে নিজের সৃজনশীল জগৎ নির্মাণ করে চলেছেন এমিল আজাদ। প্রভাষক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীতশিল্পী—দুটি ভিন্ন জগতকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে চলেছে তাঁর জীবন। শ্রেণিকক্ষের মনোযোগী পরিবেশ আর স্টুডিওর সৃজনশীল সময় মিলিয়ে তাঁর গান হয়ে ওঠে গভীর ও ব্যক্তিগত।
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা এমিল আজাদের। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি টান ছিল। স্কুলজীবনে বন্ধুদের সঙ্গে ব্যান্ড গড়ে গান চর্চার মধ্য দিয়ে মঞ্চের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। ২০১১ সালে চট্টগ্রাম মুসলিম হলে আয়োজিত একটি আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড আয়োজনে তাঁর প্রথম লাইভ পরিবেশনা আজও স্মরণীয়।
শিক্ষাজীবনে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বর্তমানে আগ্রাবাদ মহিলা কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। শিক্ষকতা তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা শেখা ও শেখানোর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তাঁর গানের কথায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
এমিল আজাদের গানের বিশেষত্ব হলো—লেখা, সুর, সংগীতায়োজন, কণ্ঠ ও ভিডিও নির্মাণের প্রায় সব কাজই তিনি নিজ হাতে করেন। তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম ‘মুদ্রিতকথন’-এ রয়েছে আটটি মৌলিক গান ও আলাদা ভিডিও। এ কাজে তাঁর স্ত্রী ছিলেন সৃজনশীল সহযাত্রী। গানগুলো অনলাইন সংগীত প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ পেয়েছে।
দীর্ঘদিন পেশাদার আলোকচিত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁর দৃশ্যকল্প নির্মাণের দক্ষতা গানচিত্রেও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও চ্যানেল ও মঞ্চে তিনি এমিল নামেই পরিচিত।
নিজেকে কখনো নির্দিষ্ট কোনো ঘরানায় বেঁধে রাখেননি এমিল আজাদ। শ্রোতা হিসেবে নানা ধরনের গান শোনেন, সেখান থেকেই গড়ে ওঠে তাঁর নিজস্ব গল্প ও সুর।
২০২৬ সালে স্ত্রীর উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনে অস্ট্রেলিয়ায় গেলেও তাঁর সংগীতচর্চা থেমে থাকবে না। আগামী পাঁচ বছরে নিয়মিত নতুন গান প্রকাশ এবং ভিডিও চ্যানেলকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি। এমিলের স্বপ্ন—তার গান হয়ে উঠুক মানুষের জীবনের নীরব সঙ্গী।

বিনোদন ডেস্ক