স্বাধীন চলচ্চিত্রের নতুন ঠিকানা ‘সিনে টুটেম’
স্বাধীন ও আর্টহাউস চলচ্চিত্রের নিয়মিত প্রদর্শনীর জন্য নতুন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করছে ‘সিনে টুটেম’। ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউজের অংশীদারিত্বে প্রতি মাসের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বসবে এই চলচ্চিত্রের আসর। পাশাপাশি দর্শক ও নির্মাতাদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগও থাকবে এখানে।
চলচ্চিত্র নির্মাণের পর সেটি দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া স্বাধীন নির্মাতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে স্বল্পদৈর্ঘ্য, প্রামাণ্যচিত্র ও বিকল্প ধারার চলচ্চিত্রের নিয়মিত প্রদর্শনের সুযোগ এখনো সীমিত। সেই জায়গা থেকেই নিয়মিত ও মানসম্মত প্রদর্শনীর একটি বিকল্প পরিসর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ‘সিনে টুটেম’।
আয়োজকরা জানান, এখানে চলচ্চিত্রগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিসিপি ফরম্যাটে প্রদর্শিত হবে। থাকবে ৭.১ সারাউন্ড সাউন্ড। ফলে বড় পর্দায় নির্মাতার পরিকল্পিত ভিজ্যুয়াল ও শব্দের পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা দর্শক উপভোগ করতে পারবেন।
বাংলাদেশে বিকল্প চলচ্চিত্র প্রদর্শনের রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য। একসময় স্বাধীন নির্মাতারা ১৬ মিমি প্রজেক্টর নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে দর্শকদের চলচ্চিত্র দেখাতেন। সেই ধারাবাহিকতাকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এগিয়ে নিতে চায় ‘সিনে টুটেম’।
ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব আর্ট হাউজ সিনেমাসের সদস্য এই প্ল্যাটফর্মের প্রথম আয়োজন হবে ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর।
২৪ সেপ্টেম্বর প্রদর্শিত হবে রুশ নির্মাতা আর্সেন আরিস্তাকেসিয়ানের ‘দ্য মিউট’, গোলাম রাব্বানীর ‘ছুরত’, মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের ‘মাস্তুল’ এবং খন্দকার সুমনের ‘সাতাওঁ’।
২৫ সেপ্টেম্বর থাকছে মোল্লা সাগরের ‘ভবার ভিটা’, আফরোজা হোসেন সারার অ্যানিমেশন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘তিমি’র গান’ এবং ইভান মনোয়ারের ‘প্যাসেঞ্জার’। একই দিনে প্রদর্শিত হবে আকাশ হক পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দি ইউনিভার্সিটি অফ চানখারপুল’।
প্রতিটি প্রদর্শনীর পর নির্মাতা ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দর্শকদের প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকবে। এরপর চা-আড্ডায় চলচ্চিত্র নিয়ে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন দর্শকরা। এর মধ্য দিয়ে পর্দায় চলচ্চিত্র দেখার পাশাপাশি নির্মাতা ও দর্শকের মধ্যে তৈরি হবে সরাসরি যোগাযোগের নতুন পরিসর।

বিনোদন ডেস্ক