‘মন বলে হ্যাঁ, শরীর বলে থামো’, কীসের আক্ষেপ অমিতাভের?
বলিউডের মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন মানেই এক অন্তহীন অনুপ্রেরণা। ৮৪ বছর বয়সেও তাঁর কাজের স্পৃহা এবং ব্যস্ততা তরুণ প্রজন্মকে অবাক করে। তবে বয়সের ভার ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা যে মাঝে মাঝে তাঁকে থামিয়ে দিতে চায়, তা তিনি কখনোই লুকোন না।
সম্প্রতি নিজের অফিশিয়াল ব্লগে অমিতাভ বচ্চন তাঁর দৈনন্দিন জীবনের নানা সংগ্রাম, ঘুমের সমস্যা এবং কাজের ব্যস্ততার এক খোলামেলা চিত্র তুলে ধরেছেন।
ব্লগ লেখার সময় ফন্টের সাইজ বা অক্ষরের আকার ছোট-বড় হয়ে যাওয়ায় অমিতাভ বচ্চন কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। গুগলে খুঁজেও এর সমাধান না পেয়ে ২ নভেম্বরের ব্লগে তিনি পাঠকদের কাছে এ বিষয়ে সাহায্য চেয়েছেন। ব্যস্ততার মাঝেও নিয়মিত ঘুমানোর চেষ্টা করলেও আগের রাতে ব্লগ লেখার কথা মাথায় থাকায় তাঁর স্বাভাবিক সময়ের আগেই ঘুম ভেঙে যায়। ঘুমোনোর জন্য নানা উপায় চেষ্টা করেও যখন কাজ হচ্ছিল না, তখন শেষ পর্যন্ত কম্বলে নিজেকে মুড়ে ভ্রূণের মতো গুটিসুটি মেরে শুয়ে পড়ার মতো স্বাভাবিক কৌশল অবলম্বন করেন তিনি। সকালে বারবার হাই ওঠার মাধ্যমে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি ও অপর্যাপ্ত ঘুমের কথাই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর লেখায়। এছাড়া নিয়মিত শারীরচর্চার অভ্যাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও বয়স ও শরীরের কারণে তা সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না, যা ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে তিনি লিখেছেন–‘মন বলে, হ্যাঁ, পারব। কিন্তু শরীর বলে, একটু থামো বন্ধু!’
১৯৪২ সালের ১১ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করা অমিতাভ বচ্চন সাতের দশকের গোড়ার দিকে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন। ‘জিঞ্জির’, ‘দিওয়ার’, ‘শোলে’র মতো ক্লাসিক ছবি উপহার দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’ এবং পরবর্তীতে ‘শাহেনশা’। শত প্রতিকূলতা, অসুস্থতা এবং বয়সের বাধা পেরিয়ে আজও সমান তালে অভিনয় চালিয়ে যাওয়া এই জীবন্ত কিংবদন্তি কোটি মানুষের কাছে এক অনন্য আইকন।

বিনোদন ডেস্ক