চুল পড়া রোধে কীভাবে চিকিৎসা হয়?
চুল পড়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা নতুন চুল না গজানো নিয়ে সমস্যায় পড়েন অনেকে। চুল পড়ার সমস্যা সমাধানে বর্তমানে বেশ উন্নত চিকিৎসা রয়েছে।
চুল পড়ার চিকিৎসার বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩৬৪৯তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. জাহেদ পারভেজ। বর্তমানে তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
প্রশ্ন : চুল পড়ার সমস্যা হলে কী ধরনের চিকিৎসা করে থাকেন? এবং কী ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন?
উত্তর : চুল তো অনেক কারণে পড়তে পারে। রোগীকে আমরা দেখি যে কী কারণে পড়ছে। ক্লিনিক্যাল ইতিহাস, কত দিন ধরে পড়ছে, তার জীবনযাপনের ধরন কী রকম, পুষ্টি—সবকিছু দেখার পর বিশেষ মেশিনে আমরা পরীক্ষা করি, যাকে বলে ট্রাইকোস্কোপ। মাইক্রোস্কোপের মতো। এটি স্ক্যাল্পে দিলে চিকিৎসক বুঝতে পারেন কী কারণে চুল পড়ছে। প্রাথমিক অবস্থায় আমরা যেটি করি, চুল পড়া রোধে কিছু স্বাভাবিক ওষুধ রয়েছে, সেগুলো দিই।
চুল ধরে রাখার জন্য ভিটামিন ‘ডি’ জরুরি। ভিটামিন ‘ডি’, ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্সের সাপ্লিমেন্ট দিই। রক্তস্বল্পতা হলেও অনেক চুল পড়ে। তাদের ওষুধের মাধ্যমে প্রথম চিকিৎসা দেওয়া হয়। টিনোস্টোরাইডড টেবলেট, সো পালমেট্টো এক ধরনের ওষুধ, মিনোক্সিডিল বা নন মিনোক্সিডিল। এসব ওষুধ চুল ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্রাথমিক অবস্থায় আমরা এগুলো দিই।
যখন দেখি কোনোভাবেই চুল টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। জীবনযাপনের ধরনের পরিবর্তনের কথা বলি। একজন মানুষের খাদ্যাভ্যাস কেমন হচ্ছে, ঘুম কেমন হচ্ছে, তার ব্যায়াম হচ্ছে কি না, পাশাপাশি চুলের যত্ন নিয়মিত করছে কি না—সেদিকে নজর দিই। কোনো কারণে যদি দেখি ওষুধে কাজ হচ্ছে না, সে ক্ষেত্রে প্লাটিলেট রিচ প্লাজমাথেরাপির কথা বলি। এরপর হলো, মাইক্রো নিডিলং, স্টিম সেল, গ্রোথ ফ্যাক্টর, হেয়ার ফিলার ইত্যাদি। তবে একেবারেই যাদের চুল থাকছে না, অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়ার জন্য চিকিৎসা হলো হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট।

ফিচার ডেস্ক