পুরুষের বন্ধ্যত্বের কারণ কী
বিভিন্ন কারণে পুরুষের বন্ধ্যত্ব হয়। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন ‘স্বাস্থ্য প্রতিদিন’ অনুষ্ঠানের ২৪৩৯ তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন মল্লিক। বর্তমানে তিনি গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।
প্রশ্ন : পুরুষের বন্ধ্যত্ব বলতে আমরা কী বুঝি?
উত্তর : একটি সক্ষম দম্পতি যদি স্বামী-স্ত্রী মেলামেশার পর দুই বছরের মধ্যে কোনো সন্তান না হয়, তাহলে আমরা ধরে নেব তাঁর বন্ধ্যত্বের সমস্যা আছে। তখন তাঁকে চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসার জন্য যেতে হবে। দেখা গেছে ৩০ থেকে ৩২ ভাগ নারীর কারণ, ৩০ থেকে ৩২ ভাগ পুরুষের কারণ, বাকি হলো উভয়ের কারণ। কোনো দম্পতি যদি চিকিৎসার জন্য যান, দুজনকেই প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে বের করতে হয় কারণটা কী, কার? তখন দুজনেরই চিকিৎসা দিতে হবে। শুধু একজনের চিকিৎসা দিয়ে বন্ধ্যত্ব দূর করা সম্ভব নয়।
প্রশ্ন : পুরুষের বন্ধ্যত্বের কারণগুলো কী কী?
উত্তর : আসলে পুরুষের বেলায় তাঁর (স্পার্ম) ভ্রূণ যে অণ্ডকোষ থেকে তৈরি হয়, সেই ভ্রূণ যদি সঠিকভাবে গিয়ে ওভামের সঙ্গে ফারটিলাইজ না করতে পারে, তাহলে বন্ধ্যত্বের সৃষ্টি হয়। পুরুষের ক্ষেত্রে দুটো বিষয় হতে পারে। একটি হলো অণ্ডকোষ থেকে তাঁর তৈরি হচ্ছে না। আরেকটি হলো অণ্ডকোষ থেকে তৈরি হলো কিন্তু সেটা বের হতে পারছে না। আরেকটি রয়েছে অজানা কারণ। নারী-পুরুষ দুজনেই ঠিক আছে। তবে কেন তাঁর হচ্ছে না? এটা অজানা কারণ।
ভ্রূণ অণ্ডকোষ থেকে হরমোনের জন্য হয়তো তৈরি হতে পারে না। আরেকটি হলো, বের হলো কিন্তু হয়তো যেতে পারছে না। শুরুতে সমস্যা। আবার হতে পারে প্রোস্টেটগ্রন্থির কাছে সমস্যা। আমাদের দেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সমস্যা ইপিডিডাইমিটিস। অণ্ডকোষের পাশে একটি মাংসের মতো থাকে, সেটা ব্লক হয়ে যায়। বিভিন্ন কারণে ব্লক হয়। অনেক আগে সংক্রমণ হয়েছে। অথবা কোনো যৌনরোগের জন্য হয়েছে বা জন্মগতভাবে তাঁর এখানে সমস্যা আছে। দেখা যায় ভ্রূণ বের হয়ে যেতে পারে না। তখন তাঁর বন্ধ্যত্ব হয়েছে বলেই প্রধানত আমরা পাই।

ফিচার ডেস্ক