পুষ্টিহীনতার কারণ ও তার প্রতিকার

সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় মা যদি পুষ্টিহীনতায় ভোগে তাহলে সন্তান ও মা দুজনেরই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এটা সাধারণত এক ধরনের হরমোনের কারণে হয়ে থাকে। আজ ২৭ এপ্রিল এনটিভির স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২০১৮তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা প্রফেসর মোজাহেরুল হক।
প্রশ্ন : পুষ্টিহীনতা মানে কী?
উত্তর : পুষ্টিহীনতার দুটি দিক রয়েছে। একটি হলো নিউট্রিশন বা পুষ্টির অভাব, আরেকটি হলো রক্তশূন্যতা। যখন কোনো মায়ের মধ্যে পুষ্টিহীনতা ও রক্তশূন্যতা থাকে তাহলে তাঁর সন্তানের ওপর এর ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়ে। তাঁর অনাগত সন্তানও এই রোগে আক্রান্ত হয়। আমাদের দেশে মেয়েদের খাবাবের বিষয়ে অনেক কুসংস্কার আছে। আর পুষ্টির ব্যাপারে ছেলেকে বেশি প্রাধাণ্য দেওয়া হয়ে থাকে। এখন এই ধারণার অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। তবে আগের যে ঘাটতি রয়ে গেছে তা আরো কিছু সময় আমাদের বয়ে নিতে যেতে হবে। আবার যখন কোনো নারী সন্তানসম্ভবা হন তখন মেয়ের মা ও শ্বাশুড়ি তাঁকে কম খাবার দেন। তাঁদের ধারণা কম খেলে বাচ্চা ছোট হবে এবং জন্ম দেওয়ার সময় মায়ের কষ্ট কম হবে। এটাও একটা বড় কারণ পুষ্টিহীনতার। মা যদি পুষ্টিকর খাবার খান এবং সেই সময় মিনারেল, ভিটামিন তাদের সঠিক উপায়ে দেওয়া হয় তাহলে দেখা যাবে তার যে সন্তান হবে সে সুস্বাস্থ্য নিয়ে জন্ম নেবে এবং সে অনেক রোগ থেকে বেঁচে যাবে। মনে রাখবেন, অপুষ্টির কারণে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। আর যখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় তখন বাচ্চা ও মা দুজনেরই যেকোনো রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
প্রশ্ন : একজন মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগছে এটা কীভাবে বোঝা যাবে?
উত্তর : যে অপুষ্টিতে ভুগছে সে কিন্তু সবসময় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তার খেলাধূলার প্রতি আগ্রহ কম থাকবে, কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহ কম থাকবে, সব সময় এক ধরনের অবসন্ন ভাব থাকবে, সারাক্ষণ শুয়ে বসে কাটাবে, অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে যাবে, প্রচুর ঘুমাবে- এ ধরনের লক্ষণ দেখে বোঝা যাবে সে অপুষ্টিতে ভুগছে এবং এটাও খেয়াল রাখতে হবে তার বয়স অনুযায়ী উচ্চতা ঠিক আছে কি না এবং উচ্চতা অনুযায়ী তার স্বাস্থ্য ঠিক আছে কি না এবং সেই পরিমাণ ওজন তার আছে কি না। মনে রাখবেন, যার পুষ্টি কম তার ওজনও কম থাকবে।urgentPhoto
প্রশ্ন : যদি গর্ভবতী নারী অপুষ্টিতে ভোগে তাহলে তার সন্তানের ওপর এর কতটা প্রভাব পড়ে?
উত্তর : কোনো সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় মা যদি পুষ্টিহীনতায় ভোগে তাহলে সন্তান ও মা দুজনেরই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। এটা সাধারণত এক ধরনের হরমোনের কারণে হয়ে থাকে। জন্মের পর বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও সন্তান পুষ্টিহীনতায় আক্রান্ত হতে পারে। আবার সন্তানের খাবারে যদি পুষ্টি না থাকে তখন তার মেধায়ও ঘাটতি হবে। এই ঘাটতি হওয়ার কারণে সে পড়ালেখায় দুর্বল হবে, তার খেলাধুলায় আগ্রহ থাকবে না এবং তার বেটে হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।
প্রশ্ন : অপুষ্টি থেকে রক্ষা পেতে শিশুদের, বয়স্কদের এবং মায়েদের খাদ্যতালিকায় কোন কোন পুষ্টিকর খাবার রাখা প্রয়োজন?
উত্তর : আমরা সুস্বাস্থ্যের জন্য দুটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে বলি। একটি হলো পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার আর অন্যটি হলো পুষ্টিকর খাবার। প্রথমে খেয়াল রাখতে হবে পর্যাপ্ত খাবারের মধ্যে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট ঠিকমতো নেওয়া হয়েছে কি না এবং তার সাথে এমন কোন জিনিস খাওয়া যাতে ভিটামিন এবং মিনারেল ঠিকমতো থাকে। এগুলো যদি আমরা পরিমাণ মতো খাই সেটা আমাদের পুষ্টিতে সহায়তা করবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ভালো তেল বলতে কোনো তেল নেই। সব তেলই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। রান্না করতে গিয়ে তেল যদি বেশি পুড়ে যায় সেটা আমাদের শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। সুতরাং খাবার রান্না যত কম হবে, তেল যত কম হবে ততই ভালো। মনে রাখবেন, তেলের কোলেস্টেরল আমাদের রক্ত কনিকায় প্রবেশ করে স্বাস্থ্যহানি ঘটায়।