খিদে মেটানোর জাদুকরি স্বাদ: আজ বিশ্ব নুডলস দিবস
কাজের ফাঁকে ব্যস্ত দুপুরে কিংবা গভীর রাতের নীরবতায় এক বাটি ধোঁয়া ওঠা গরম নুডলস বাঙালির ফুড ডায়েরিতে এর চেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু বুঝি আর দ্বিতীয়টি নেই! মাত্র কয়েক মিনিটের রান্নার যাদু আর রকমারি স্বাদের সুবাদে গ্লোবাল ফুড ম্যাপে নুডলস আজ পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছে। আর আজ সেই জনপ্রিয় পদটিকে উদ্যাপনেরই দিন ‘বিশ্ব নুডলস দিবস’। নুডলসের সুদীর্ঘ ইতিহাস, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং বিশ্বজুড়ে এর জনপ্রিয়তাকে স্মরণ করার মোক্ষম উপলক্ষ এটি।
এশিয়ার দেশ চীন, জাপান, কোরিয়া কিংবা থাইল্যান্ডে নুডলসের শিকড় অনেক গভীর। সময়ের বিবর্তনে এশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে এই খাবার এখন আমেরিকা, ইউরোপসহ পৃথিবীর প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে নুডলস শুধু কোনো ফ্যান্সি রেস্তোরাঁর আভিজাত্যই নয়, বরং আধুনিক ও দ্রুতগতির যান্ত্রিক জীবনে ঝটপট পেট ভরানোর সবচেয়ে বড় ভরসা।
আমাদের দেশেও নুডলসের ক্রেজ দারুণ সর্বজনীন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, হলের তরুণ সমাজ কিংবা ব্যস্ত করপোরেট চাকুরিজীবী সবার কাছেই ইনস্ট্যান্ট নুডলস এক প্রকার লাইফসেভার। সহজে ও কম সময়ে তৈরি করা যায় বলেই এটি এত জনপ্রিয়।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। পুষ্টিবিদরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সব ধরনের নুডলস কিন্তু শরীরের জন্য সমান উপকারী নয়। বিশেষ করে ইনস্ট্যান্ট নুডলসে অতিরিক্ত সোডিয়াম, ক্ষতিকর ফ্যাট ও বিভিন্ন প্রিজারভেটিভ থাকে। তাই প্রতিদিনের প্রধান খাবারের বদলে এটি খাওয়ার সময় পাতে কিছুটা পরিবর্তন আনা জরুরি। নুডলসের সাথে টাটকা শাকসবজি, ডিম, মাংস বা মাছ মিশিয়ে পুষ্টিকর করে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বিশ্ব নুডলস দিবস কেবল এই লোভনীয় খাবারটিকে উদযাপনের দিন নয়, বরং রসনাবিলাসের সঙ্গে স্বাস্থ্যের সুষম ভারসাম্য বজায় রাখার এক দারুণ বার্তা।

ফিচার ডেস্ক