সন্ধ্যায় সিরিজ বাঁচানোর লক্ষ্যে মাঠে নামছে বাংলাদেশ
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশর। প্রথম ম্যাচে হেরে এখন বেশ চাপে পড়ে গেছে টাইগাররা। দ্বিতীয় ম্যাচে হয়ে দাঁড়িয়েছে বাঁচা-মরার। এই ম্যাচ হারলে পড়তে হবে সিরিজ হারের লজ্জায়। এমন সমীকরণ নিয়ে আজ আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে ম্যাচ। খেলা দেখা যাবে টি-স্পোর্টস ও নাগরিক টিভিতে। অনলাইনে আই স্ক্রিন, টফি ও ট্যাপম্যাড অ্যাপ এ।
সিরিজ বাঁচানোর সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ আরও একটি। গত মাসে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে হারল টানা চার ম্যাচ। সেখান থেকে বের হওয়ার চ্যালেঞ্জও নিতে হবে লিটন দাসের দলকে।
প্রথম ম্যাচে সাগরিকার ব্যাটিং সহায়ক উইকেটেও ছটফট করতে দেখা গেছে বাংলাদেশের ব্যাটারদের। বিশেষ করে এ ম্যাচে টপঅর্ডার ব্যাটাররা ব্যর্থ ছিলেন সবাই। ১৮ রান তুলতেই হারিয়েছিল চার উইকেট। ফলে আইরিশদের দেওয়া ১৮২ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ করতে পেরেছিল ১৪২ রান।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ১৪২ রানের মধ্যে তাওহিদ হৃদয় একাই করেছিলেন ৮৩ রান। পুরো ইনিংসে মাত্র ৩জন ব্যাটার দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পেরেছিল। হৃদয় ছাড়া জাকের আলী অনিক ২০ আর শরিফুল ইসলাম ১২ রান করেছিলেন।
বাংলাদেশের হারা সর্বশেষ চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে দেড়শ রানও করতে পারেনি বাংলাদেশ। যে ম্যাচে দেড়শ করেছিল সেটিও ছিল ১৫১ রান। বাংলাদেশের এই চিত্র দেখে এটা স্পষ্ট যে, ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণেই এই হারগুলো দেখেছে বাংলাদেশ।
গত চার ম্যাচের ব্যাটিংয়ে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। সবগুলো ম্যাচেই একজন বা দুজন ব্যাটার একপ্রান্ত আগলে রেখে চাপ নিয়ে ব্যাটিং করে গেছেন। কোনো ম্যাচেই সেভাবে বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। যেটি বাংলাদেশের ব্যর্থতার পেছনে বড় একটি কারণ।
সমস্যা খুঁজে বের করার পরের কাজ সমাধান করা। বাংলাদেশের জন্য সেই সমাধান হলো ব্যাটারদের দায়িত্ব নেওয়া। সঠিকভাবে পারফর্ম করা। বিশেষ করে টপঅর্ডার ব্যাটারদের এই দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ, শুরুতেই দ্রুত উইকেট চলে গেলে সেই ম্যাচ খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলা বেশ কষ্টসাধ্য কাজ। যেমনটা দেখা গেছে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মোমেন্টামের খেলা। এখানে পরিসংখ্যানই সব নয়। তবুও কিছুটা স্বস্তির বলা যায়। বাংলাদেশ এ ম্যাচেও মাঠে নামবে সেই স্বস্তি নিয়ে। এখন পর্যন্ত এই ফরম্যাটে মোট ৯ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে টাইগারদের জয় পাঁচটি ম্যাচে। তিনটি ম্যাচ জিতেছে আইরিশরা আর একটি ম্যাচের ফলাফল হয়নি।
বোলিংয়ে গত কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিক পারফর্ম করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেখানে খুব বেশি কিছু করার না থাকলেও বাংলাদেশকে মনোযোগ দিতে হবে ফিল্ডিংয়ে। সেই উইন্ডিজ সিরিজ থেকেই ঠিকঠাক মতো বল তালুবন্দি করতে পারছেন না ফিল্ডাররা। টি-টোয়েন্টির ছোট খেলায় যেটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সিরিজ বাঁচানোর লক্ষ্যে দ্বিতীয় ম্যাচে জিততে হলে বাংলাদেশকে একসঙ্গে পারফর্ম করতে হবে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই। বিশেষ করে দায়িত্ব নিতে হবে ব্যাটারদের।
দ্বিতীয় ম্যাচেও একাদশে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই। অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে পারে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড
লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, নুরুল হাসান সোহান, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

স্পোর্টস ডেস্ক