বিশ্বকাপের আগে ফের বিতর্কে ফিফা
‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্যা আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি দুই মাসেরও কম। আগামী জুনে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। কিন্তু বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না।
নতুন করে সামনে এসেছে যাতায়াত ভাড়া নিয়ে বিতর্ক। আকাশ ছোঁয়া ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়ার। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিলের দাবি, দর্শকদের জন্য রেলভাড়ার এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির দায় ফিফাকেই নিতে হবে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
নিউইয়র্ক থেকে নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ৩০ মিনিট। এই সংক্ষিপ্ত পথের জন্য যাতায়াত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ হাজার টাকা)।
অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই পথের ভাড়া মাত্র ১২.৯০ ডলার। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপ চলাকালীন শিশু বা প্রবীনদের জন্যও কোনো বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। বিকল্প হিসেবে শাটল বাসের ভাড়াও ধরা হয়েছে ৮০ থেকে ৯৫ ডলার।
নিউজার্সির গভর্নর মিকি শেরিল দাবি করেছেন, রাজ্য প্রশাসন এমন এক চুক্তি পেয়েছে যেখানে পরিবহন খাতে ফিফার কোনো আর্থিক অংশগ্রহণ নেই। তার ভাষ্য, বিশ্বকাপের মতো এত বড় আসরে দর্শকদের স্বার্থে পরিবহন ব্যয়ে ফিফার ভর্তুকি দেওয়া উচিত।
ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হেইমো শিরিগি এই অভিযোগের জবাবে বেশ কড়া ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, ‘অস্বাভাবিক এই ভাড়া কাঠামো দর্শকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে মানুষ গণপরিবহন ছেড়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করবে। এতে যানজট বাড়বে এবং দর্শকরা সময়মতো স্টেডিয়ামে পৌঁছাতে পারবে না। যা সামগ্রিক আয়োজনের সাফল্যকে ম্লান করে দেবে।’
ফিফার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সংস্থাটি লাভের জন্য নয়, বরং অলাভজনক কাঠামোয় পরিচালিত হয়। বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত রাজস্ব বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালসহ মোট ৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। একইভাবে জিলেট স্টেডিয়ামেও রেলভাড়া বাড়ানো হয়েছে ৮০ ডলার পর্যন্ত। ব্যক্তিগত গাড়ির পার্কিং ভাড়াও আকাশচুম্বী। প্রতিটি গাড়ির জন্য গুণতে হবে ১৭৫ থেকে ২২৫ ডলার।

নিজস্ব প্রতিবেদক