১৪০০ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে টেকনোপ্রিনিউরশিপে চ্যাম্পিয়ন টিম আশা
এক হাজার চারশত প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে গিগালজি আয়োজিত ‘টেকনোপ্রিনিউরশিপ ব্যাচ ২’ এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘টিম আশা’। প্রথম রানার্সআপ হয়েছে ‘টিম ট্রু ডে’ এবং দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছে ‘টিম সার্ভিও’।
সম্প্রতি ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ আয়োজন। দেশীয় স্টার্টআপকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার লক্ষ্যে দ্বিতীয়বারের মতো এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে গিগালজি লিমিটেড। এতে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধন করেন ১ হাজার ৪০০ তরুণ উদ্যোক্তা।
যাচাই-বাছাই শেষে ১৪টি দলকে নিয়ে শুরু হয় চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতা। বুধবার সকাল থেকে প্রতিযোগীরা বিচারকদের সামনে নিজেদের প্রকল্প উপস্থাপন করেন। উপস্থাপনা শেষে বিচারকরা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন। প্রতিযোগীরাও এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজেদের উদ্যোগের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয় ‘টিম আশা’। গিগালজির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোসলেহ উদ্দিন বলেন, দেশের তরুণদের উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই এ আয়োজনের লক্ষ্য। একটি স্টার্টআপকে ঘিরে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশীয় তরুণ উদ্যোক্তাদের কীভাবে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করছেন তারা। তিনি বলেন, প্রথমবারের তুলনায় এবারের আয়োজনের পরিসর বেড়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করার আশা করছেন তারা।
জাপানের লুপ ইনকরপোরেটেডের নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান ডিজিটাল প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিডিটিও) রনি তালুকদার বলেন, গিগালজি আয়োজিত টেকনোপ্রিনিউরশিপ ব্যাচ ২ তরুণদের প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন এগিয়ে নেওয়ার প্রশংসনীয় উদ্যোগ। প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্যোক্তা মানসিকতার সমন্বয় তরুণদের বাস্তব সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান তৈরিতে সক্ষম করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
তিনি আরও বলেন, সৃজনশীলতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও নিরন্তর শেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের পক্ষে শক্তিশালী প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।
এসএসএল কমার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আলম ইসাহক বলেন, টেকনোপ্রিনিউরশিপ ব্যাচ ২ তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ে তরুণরা নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি করার পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদী।
আয়োজনে তরুণ উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের উপস্থাপনা দেখেন জাপান থেকে আসা একদল বিনিয়োগকারী। পরবর্তী সময়ে এসব বিনিয়োগকারীর সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তাদের বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে গিগালজি।
আয়োজকরা জানান, টেকনোপ্রিনিউরশিপ ব্যাচ ২ এর মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া স্টার্টআপগুলোর সম্ভাবনা যাচাই করে সেগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দেশীয় স্টার্টআপগুলোর জন্য নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
গিগালজি ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও বেশি তরুণ উদ্যোক্তাকে সম্পৃক্ত করতে চায়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের বিকাশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক