চীনের হুঁশিয়ারি কানেই তুললেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প
হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকে সমর্থন করে গত সপ্তাহে মার্কিন সিনেটে পাস হওয়া বিলে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে বিলটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হলো।
গত ১৯ নভেম্বর হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে চীনের সহিংসতার বিষয়ে সতর্ক করার জন্য এবং বিক্ষোভকে সমর্থন করে মার্কিন সিনেটে সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
‘দ্য হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি অ্যাক্ট’ নামে আইনটি প্রতিবছর মূল্যায়ন করে দেখা হবে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার জন্য হংকংয়ের যথেষ্ট স্বায়ত্তশাসন ক্ষমতা রয়েছে কি না।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট শি (জিনপিং) ও হংকংয়ের জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই’ তিনি বিলটিতে স্বাক্ষর করেছেন।
তবে চীন-সমর্থিত হংকং সরকার মার্কিন এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, আইনটি ভুল সংকেত দেবে এবং হংকংয়ের পরিস্থিতি শান্ত করায় কোনো ভূমিকা রাখবে না।
এদিকে মার্কিন পদক্ষেপের আরো কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। ওয়াশিংটন ‘খারাপ মতলব আঁটছে’ অভিযোগ করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন পদক্ষেপের ‘বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।
মার্কিন সিনেটে ‘দ্য হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি অ্যাক্ট’ পাস হওয়ার পরই এক বিবৃতিতে হংকংয়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ না করার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছিল চীন সরকার।
হংকং কর্তৃপক্ষও বলেছিল, এই বিলটি হংকং ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে চুক্তি করার সময়ে এসে এই আইনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে চীন।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলের একটি কঠিন সময়ে এসে বিলটি আইনে পরিণত হলো বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসন চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির প্রথমে ধাপে এসে পৌঁছেছে।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের চাওয়ার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ একটি বিল পাস করে। এ আইনের লক্ষ্য হচ্ছে, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ওই ভূখণ্ডের বেসামরিক নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা।
‘হংকং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি অ্যাক্ট’ বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয়পক্ষের সমর্থনে পাস হয়েছিল। কংগ্রেসে সাধারণত এমনটা ঘটে না।
বিলটি আইনে পরিণত হওয়ায় এর বিরুদ্ধে পাল্টা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। দেশটি তাদের বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা চলতে থাকায় ‘বিদেশি শক্তিকে’ দায়ী করে আসছে।
‘হংকং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি অ্যাক্ট’ বিলের প্রধান উদ্যোক্তা রিপাবলিকান প্রতিনিধি ক্রিস স্মিথ পরিষদে বলেছিলেন, ‘হংকংয়ের অধিকার ও স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করা হবে—সরকারের এমন প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থাসহ সম্মান জানাতে আমরা চীনের প্রেসিডেন্ট ও হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যামের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী নেতাদের চীন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার আইনের বিরুদ্ধে চলতি বছর হংকংয়ের রাজপথে লাখ লাখ মানুষ নেমে আসে। গণতন্ত্রপন্থীদের এ আন্দোলন সারা হংকংয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এ ভূখণ্ডের সক্রিয় কর্মীরা বলছেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে চীনে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে হংকংয়ের ১৯৯৭ সালের দিকনির্দেশনাসংবলিত একটি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও বেইজিং ভূখণ্ডটির স্বাধীনতা হরণ করছে।
নগরী কর্তৃপক্ষ মানবাধিকার ও আইনের শাসন মেনে চলছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রতিবছর এমন সনদ না দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হংকংয়ের বিশেষ বাণিজ্যিক মর্যাদার অবসান ঘটাবে ‘হংকং রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি অ্যাক্ট’।

অনলাইন ডেস্ক