খামেনি নিহত হওয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশ দুটি। তবে এই দাবি নাকচ করে ইরান বলেছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লিখেছেন, খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের একজন, মারা গেছেন। এটি ইরানের জনগণের জন্য নিজেদের দেশটিকে পুনরুদ্ধারের একমাত্র শ্রেষ্ঠ সুযোগ। খবর রয়টার্সের।
এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে বলেছেন, আমরা মনে করি এটাই সঠিক খবর। এবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, নিজে চোখে না দেখা পর্যন্ত আমি নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাই না। তবে আমার ধারণা, খামেনি আর তার অন্য নেতারা আর নেই।
অন্যদিকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছে এবং তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও মেহর দাবি করেছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এখনও জীবিত আছেন এবং যুদ্ধে ইরানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এদিকে ইরানের ওপর শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজিরবিহীন ও ভয়াবহ হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০১ জন নিহত এবং ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বৃষ্টি হামলা করেছে। খবর এএফপির।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, দেশের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৪টিই এই হামলার শিকার হয়েছে। ইরানের বিচার বিভাগ দাবি করেছে, দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্কুলে হামলায় ৮৫ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে, যাকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ‘বর্বরতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
আক্রমণের পরপরই ইরানের বিপ্লবী গার্ডস (IRGC) পাল্টা হামলা শুরু করে। তারা জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ‘সামরিক ও নিরাপত্তা কেন্দ্র’গুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। আরব আমিরাত জানিয়েছে, দুবাই ও আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের লক্ষ্য স্পষ্ট করে বলেছেন, আসন্ন হুমকি দূর করতে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতেই এই অভিযান। তিনি ইরানিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনাদের মুক্তির সময় চলে এসেছে, সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর কোনো বিদেশি সরকার উৎখাতে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক পদক্ষেপ।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানকে ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান মধ্য ও পশ্চিম ইরানে এই ঐতিহাসিক বিমান হামলায় অংশ নিয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক