ইরানের সম্পদ বাজেয়াপ্তের কথা ভাবছে আরব আমিরাত
ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক সংঘাতের উত্তাপ এবার মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাদের দেশে থাকা কয়েকশ কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ ও তহবিল বাজেয়াপ্ত করার পরিকল্পনা করছে। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে তেহরানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বিশ্ব বাণিজ্যে প্রবেশের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। খবর রয়টার্সের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাত কর্তৃপক্ষ মূলত ইরানি ‘ছায়া কোম্পানি’ গুলোর সম্পদ জব্দ ও স্থানীয় মানি এক্সচেঞ্জগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে। এই অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমগুলোই সাধারণত ইরানের মূল ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অর্থ স্থানান্তরের প্রধান হাতিয়ার। বিশেষ করে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হতে পারে। শুধু আর্থিক খাতেই নয়, নীতিনির্ধারকরা ইরানি জাহাজ আটকের মতো সরাসরি সামুদ্রিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করছেন।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই অবস্থায় সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানকে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করে দিলেও ঠিক কবে নাগাদ তারা এই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি দুবাই ও আবুধাবির মতো বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো থেকে ইরানের এই বিশাল ‘অর্থায়ন সাম্রাজ্য’ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, তবে তা তেহরানের অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় নিয়ে দাঁড় করাবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক