বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমলো
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামোতে সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর স্বর্ণের দাম কমেছে। টানা নবম দিনেো মূল্যবান এ ধাতুটির দাম নিম্নমুখী ছিল।
আজ সোমবার (২৩ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৪৮ দশমিক ৩২ ডলারে পৌঁছে। এরপর কিছুটা স্থির হয়। দিনের শুরুতে ৮ শতাংশের বেশি দরপতনের পর প্রতি আউন্সের সর্বনিম্ন দাম পৌঁছেছিল ৪ হাজার ৯৭ দশমিক ৯৯ ডলারে।
এপ্রিলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৫১ দশমিক ৪০ ডলার।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে স্পট স্বর্ণের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে। গত ২৯ জানুয়ারির রেকর্ড সর্বোচ্চ প্রতি আউন্সের দাম ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলার থেকে ২০ শতাংসের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
অন্যান্য ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৭৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৯২ দশমিক ২২ ডলারে নেমেছে। প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৪৮ দশমিক ৬৫ ডলারে পৌঁছেছে।
গতকাল রোববার (২২ মার্চ) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ পতন হয়েছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ‘গোল্ডপ্রাইস’ এ তথ্য জানায়। এদিন বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১০৮ দশমিক ৮৩ ডলার কমে ৪ হাজার ৪৯৪ ডলারে নেমে এসেছিল।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর যেকোনো ধরনের হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণার পর আজ সোমবার (২৩ মার্চ) জ্বালানি তেলের দাম ১৩ শতাংশের বেশি কমেছে। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৭ মার্কিন ডলার বা ১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ১৩ ডলার বা প্রায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে নেমে আসে।
এর আগে আজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, এ সপ্তাহের শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে এবং তিনি ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে যেকোনো ধরনের সামরিক হামলা আগামী পাঁচ দিনের জন্য ‘স্থগিত’ রাখবেন।
এরফলে, আজ সোমবার রাতের মধ্যে তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে তাদের বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোতে হামলা করা হবে—নিজের দেওয়া সেই হুমকি থেকে তিনি আপাতত সরে দাঁড়ান।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পরিবাহিত হয়। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অ্যানালিটিক্স ফার্ম ‘কপলার’ এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুদ্ধের আগের তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশ জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক