তৃণমূলনেত্রী ও অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ গ্রেপ্তার

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য যুব সভানেত্রী ও অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে ত্রিপুরা রাজ্য পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গাড়ি চাপা দিয়ে একজনকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
এরই মধ্যে সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭, ১০২-বি, ৫০৬ ও ১৫৩ ধারায় জামিন অযোগ্য মামলা করা হয়েছে।
আগামী ২৫ নভেম্বর ত্রিপুরায় পৌরসভার নির্বাচন। সেখানে প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। ফলে দলের প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারণার জন্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে ত্রিপুরায় যাচ্ছেন তৃণমূলের মন্ত্রী-সাংসদ-বিধায়কসহ অন্য নেতা-নেত্রীরা।
গত শনিবার রাতে ত্রিপুরায় ভোটের প্রচারণা সেরে হোটেলে ফিরছিলেন সায়নী ঘোষ। এসময় চৌমহনীতে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সভার উদ্দেশ্যে জমায়েত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে সায়নী ‘খেলা হবে’ বলে স্লোগান দেন। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কটু মন্তব্য করেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে।
পাশাপাশি সায়নীকে বহনকারী গাড়িটি স্থানীয় মানুষকে চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। এরপর সায়নীকে গ্রেপ্তার করার জন্য রাতেই স্থানীয় পোলো হোটেলে যায় পুলিশ। এসময় পুলিশের কাছে আইনি নোটিশ দাবি করেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষসহ তৃণমূল নেতারা। এ সময় সায়নীকে থানায় নিতে যেতে বাধা দেন তারা, তাদের দাবি বিনা নোটিশে এভাবে কোনো নারীকে তুলে নেওয়া যায় না।
এরপর রোববার সকালে সায়নী নিজেই আগরতলায় পূর্ব থানায় যান। তার সঙ্গে ছিলেন কুনাল ঘোষ ও সদ্য কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া ও রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব। প্রায় সারাদিনই সায়নীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এদিকে সায়নীকে যখন দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তখন থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। এক সময় তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। এতে দুই পক্ষেরই কয়েকজন আহত হয়। একসময় উত্তেজিত জনতাকে সরাতে পুলিশ লাঠিপেটা করে।
তৃণমূলের অভিযোগ, সায়নী থানায় ঢুকতেই তার ওপর হামলা চালায় বিজেপি আশ্রিত দুর্বৃত্তরা। ভাঙচুর করা হয় স্থানীয় তৃণমূল নেতা সুবল ভৌমিকের গাড়িও। ওই ঘটনার একটি ভিডিও পোস্ট করে নিন্দা করে টুইট করেন অভিষেক ব্যনার্জি।