যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু চুক্তি ত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা শুরু
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন চিঠি দিয়ে জাতিসংঘকে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে।
গত জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর শুক্রবার এর আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হলো।
ট্রাম্পের ভাষায়, এই চুক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘শাস্তি’, যার কারণে লাখো মার্কিনি চাকরি হারিয়েছে।
যদিও শুক্রবারের এই ঘোষণাকে ‘প্রতীকী’ হিসেবেই মনে করতে হবে। কারণ, ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বরের আগে প্যারিস চুক্তি থেকে কারো বেরিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর ২০০০ সালে যখন এটি কার্যকর হবে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়ে যাবে। সেই নির্বাচনে যদি ট্রাম্পের পরিবর্তে অন্য কেউ নির্বাচিত হন, তাহলে তিনি আবার চাইলেই এই চুক্তিতে ফিরে আসতে পারবেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই প্যারিস জলবায়ু চুক্তির বিরোধিতা করে আসছিলেন। গত মে মাসের শেষে ইতালির সিসিলির তাওরমিনাতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি-সেভেনের শীর্ষ সম্মেলনের অন্যতম আলোচনা বিষয় ছিল প্যারিস জলবায়ু চুক্তি।
জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলোর নেতারা সেই বৈঠকে চেষ্টা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি নিয়ে অগ্রসর হওয়ার অঙ্গীকার আদায় করতে। কিন্তু ট্রাম্প তাতে সাড়া না দিয়েই দেশে ফিরে যান।
পরে ১ জুন হোয়াইট হাউসে এক বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় করা প্যারিস চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর 'অর্থনৈতিক বোঝা' চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি চুক্তি, যার কারণে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে; কিন্তু লাভবান হবে অন্য দেশ।’
ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। পরে শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি-সেভেনভুক্ত দেশ চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত আরো পাঁচটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়েই এ ব্যাপারে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে প্যারিস চুক্তি কার্যকর করার জন্য ‘সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সদিচ্ছার’ ওপর জোর দেন তাঁরা।
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষায় ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্যারিসের ‘কপ-২১’ জলবায়ু চুক্তিতে আমেরিকাসহ আরো ১৮৭টি দেশ মিলে অঙ্গীকার করেছিল যে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মাত্রা তারা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখবে; এমনকি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি নামিয়ে আনতে চেষ্টা করবে।
চুক্তিটিকেও পুরোনো ধারণা বলে নির্বাচনী প্রচারের সময় মতপ্রকাশ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর যুক্তি দেখিয়ে ট্রাম্প জলবায়ু নীতি থেকে সরে আসার কথা জানিয়েছিলেন। কারণ, এ চুক্তির আলোকে যে জলবায়ু তহবিল গঠিত হয়, তার বড় জোগানদাতা যুক্তরাষ্ট্র। এই তহবিল থেকেই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো সাহায্য পায়।

বিবিসি