মিনেসোটায় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিতে পেন্টাগনের নির্দেশ
আলাস্কায় অবস্থানরত প্রায় ১৫০০ সক্রিয় সেনা সদস্যকে মিনেসোটায় মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। মিনেসোটায় ফেডারেল অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে বলে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় রোববার (১৮ জানুয়ারি) রয়টার্সকে দুইজন অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তা জানান, আলাস্কাভিত্তিক সেনাবাহিনীর ১১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের দুটি পদাতিক ব্যাটালিয়নকে ‘প্রস্তুত থাকার’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ইউনিটটি মূলত আর্কটিক অঞ্চলে অভিযানের জন্য বিশেষায়িত। তাদের মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল শহরে পাঠানো হতে পারে, যেখানে তীব্র শীতের মধ্যেও ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। খবর আল জাজিরার।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) ইমেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সর্বাধিনায়কের নির্দেশ কার্যকর করতে সবসময় প্রস্তুত। এই খবর প্রথম প্রকাশ করে এবিসি নিউজ।
বিক্ষোভের পটভূমি
মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা ও এক সন্তানের মা রেনি নিকোল গুড (৩৭) গুলিতে নিহত হওয়ার পর শহরটিতে প্রায় তিন হাজার ফেডারেল আইসিই এজেন্ট মোতায়েন করা হয় এবং ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। এরপর থেকেই বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
চলমান অভিযানে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। রোববার আইসিই জানিয়েছে, মিনিয়াপোলিসে গ্রেপ্তারের ১২ দিন পর টেক্সাসের এল পাসোতে আইসিই হেফাজতে ভিক্টর ম্যানুয়েল দিয়াজ (৩৬) নামের নিকারাগুয়ার এক নাগরিক মারা গেছেন।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, অভিযানের সময় এক ফেডারেল কর্মকর্তা এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে পায়ে গুলি করেন। এছাড়া মিনেসোটা পাবলিক রেডিও জানিয়েছে, আইসিই এজেন্টদের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে এক ছয় মাসের শিশু ও আরেক শিশু আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
আইসিই প্রধান টড এম. লায়ন্স জানান, অভিযানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে মানবাধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করছেন, অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় ও অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে শত শত ভেনেজুয়েলান নাগরিককে এল সালভাদরের কুখ্যাত সেকোট কারাগারে পাঠানো হয়।
ইনসারেকশন অ্যাক্ট প্রসঙ্গ
মিনেসোটায় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতির খবর এসেছে এমন এক সময়ে, যখন এর আগে জুন ও জুলাইয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভের সময় প্রায় ৭০০ মার্কিন মেরিন সেনা পাঠানো হয়েছিল। তখন তাদের কাজ ছিল কেবল দুটি ফেডারেল ভবন পাহারা দেওয়া।
সেই সময় ট্রাম্প ১৮০৭ সালের ইনসারেকশন অ্যাক্ট প্রয়োগের হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা করেননি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি আবারও মিনেসোটায় এই আইন প্রয়োগের হুমকি দেন, তবে পরে বলেন—‘এই মুহূর্তে তার প্রয়োজন নেই’।
ট্রাম্প বলেন, ‘প্রয়োজন হলে ব্যবহার করব, এটি খুবই শক্তিশালী’।
মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে আইসিই ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অভিযানকে ‘আমাদের শহরে কার্যত দখলদার বাহিনীর আগ্রাসন’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি সিএনএনকে বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ অন্যায়, অসাংবিধানিক এবং আমরা ভয় পাবো না।’
জ্যাকব আরও বলেন, হাজার হাজার নাগরিক শান্তিপূর্ণভাবে তাদের মতপ্রকাশের অধিকার প্রয়োগ করছেন।
মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ ন্যাশনাল গার্ডকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছেন, যদিও এখনো তাদের রাস্তায় নামানো হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব ক্রিস্টি নোয়েম বলেছেন, যতক্ষণ না সব বিপজ্জনক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় এনে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়, ততক্ষণ এই অভিযান চলবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক