যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভে ফেডারেল এজেন্টদের হস্তক্ষেপে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট শাসিত শহরগুলো থেকে সাহায্যের আনুষ্ঠানিক আবেদন না আসা পর্যন্ত স্থানীয় বিক্ষোভে ফেডারেল এজেন্টদের হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিনিয়াপলিসে বর্ডার পেট্রোল ও আইসিই এজেন্টদের অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনায় কয়েক সপ্তাহের টানা বিক্ষোভের মুখে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এই নমনীয় ঘোষণা দিলেন তিনি। খবর আল জাজিরার।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তিনি ডিএইচএস সচিব ক্রিস্টি নোমকে নির্দেশ দিয়েছেন— কোনো অবস্থাতেই তারা ডেমোক্র্যাট শাসিত শহরগুলোর বিক্ষোভে অংশ নেবেন না, যদি না সংশ্লিষ্ট শহরগুলো সরাসরি সাহায্য চায়।
তবে ফেডারেল সম্পত্তি রক্ষার বিষয়ে ট্রাম্প কোনো আপস করবেন না বলে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ফেডারেল ভবনগুলো রক্ষায় আইসিই ও বর্ডার পেট্রোল কঠোর ভূমিকা পালন করবে। আমাদের কর্মকর্তাদের মুখে থুতু ফেলা, গাড়ির হেডলাইট ভাঙচুর করা কিংবা আমাদের দেশপ্রেমিক যোদ্ধাদের ওপর পাথর ও ইট ছুড়ে মারা বরদাশত করা হবে না। এমনটা হলে কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। আমরা আমাদের আদালত ভবন বা ফেডারেল সম্পত্তির কোনো ক্ষতি হতে দেব না।
উল্লেখ্য, গত বছর শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং পোর্টল্যান্ডের মতো শহরগুলোতে অপরাধ দমনের নামে সামরিক কায়দায় অভিযান শুরু করেছিলেন ট্রাম্প। এর ধারাবাহিকতায় মিনিয়াপলিসে ইতিহাসের বৃহত্তম ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান চালানো হয়, যেখানে প্রায় তিন হাজার এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছিল। সোমালি বংশোদ্ভূত বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নভেম্বরে এই অভিযান শুরু হয়।
এই অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের সঙ্গে ফেডারেল সরকারের বিরোধ চরমে পৌঁছায়। বিশেষ করে ৭ জানুয়ারি রেনি গুড ও ১৪ জানুয়ারি অ্যালেক্স প্রেটি নামে দুই নাগরিক ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত হলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এজেন্টরা আত্মরক্ষার দাবি করলেও প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজ সেই দাবির বিরোধিতা করছে।
মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন অভিযানের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানালেও আদালত তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধের আদেশ দেয়নি। তবে আল জাজিরার প্রতিনিধি ম্যানুয়েল রাপালো জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণা প্রশাসনের সুর কিছুটা নরম হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অভিযানের নেতৃত্বে থাকা কমান্ডার গ্রেগ বোভিনোকে সরিয়ে টম হোমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হোমান জানিয়েছেন, এখন থেকে ঢালাও অভিযানের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে কাজ করা হবে ও স্থানীয় সহযোগিতা পেলে এজেন্টের সংখ্যাও কমিয়ে আনা হবে। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, শহর থেকে ফেডারেল এজেন্টদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক