ট্রাম্পের চাপের মুখে ইরাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ফের স্থগিত
রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুমকির মুখে ইরাকের পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আবারও স্থগিত করা হয়েছে। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয়বারের মতো এই গুরুত্বপূর্ণ ভোট স্থগিত করার ঘোষণা দেয় দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। কোরাম সংকটের কারণে পার্লামেন্ট অধিবেশনটি নির্ধারিত সময়ে শুরু হতে পারেনি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ইরাকের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদটি শিয়া মুসলিমদের, স্পিকারের পদটি সুন্নিদের ও আলঙ্কারিক প্রেসিডেন্টের পদটি কুর্দিদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। তবে এবারের সংকট মূলত দুটি কারণে ঘনীভূত হয়েছে। কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (কেডিপি) এবং প্যাট্রিওটিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান (পিইউকে) একক প্রার্থী নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। কেডিপির মনোনীত প্রার্থী ফুয়াদ হোসেনের বিপরীতে পিইউকে তাদের নিজস্ব প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে শিয়া জোটের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নুরি আল-মালিকির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, নুরি আল-মালিকিকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে দেওয়া সব ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা বন্ধ করে দেবে। ট্রাম্পের মতে, মালিকি ক্ষমতায় ফিরলে ইরাক পুনরায় দারিদ্র্য ও বিশৃঙ্খলার কবলে পড়বে।
মার্কিন হুমকি সত্ত্বেও ইরাকের প্রধান শিয়া জোট ‘কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ নুরি আল-মালিকির প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। মালিকিই তাদের একমাত্র মনোনীত প্রার্থী।
তবে জোটের ভেতরে একটি অংশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে মালিকির প্রার্থিতা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত বলে জানা গেছে। পার্লামেন্ট সচিবালয় জানিয়েছে, স্পিকার এখন দলীয় প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার নির্বাচনের এক মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর রেষারেষি ও ওয়াশিংটন-তেহরানের ছায়াযুদ্ধে ইরাকের রাষ্ট্রকাঠামো এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক