পরমাণু আলোচনার পথে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
দীর্ঘ উত্তেজনার পর পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রস্তাবিত বেশ কয়েকটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া যাচাই করছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আলোচনার একটি চূড়ান্ত রূপরেখা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স’ একটি উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও আলোচনার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি, তবে সরকারি ও সংস্কারবাদী পত্রিকাগুলো এই খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে।
এদিকে, তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন যে, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতায় পরোক্ষভাবে বার্তা বিনিময় চলছে। সোমবার তিনি জানান, আমরা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায় পরীক্ষা করছি এবং আশা করছি দ্রুতই এটি চূড়ান্ত হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান বর্তমানে আমেরিকার সঙ্গে ‘গুরুত্বসহকারে’ কথা বলছে। তবে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তিনি সামরিক চাপ বজায় রেখেছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরতে হলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সংকুচিত করতে হবে এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এই আলোচনা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে ভারত মহাসাগরে শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করে রেখেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম’ জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। তবে দুই দেশের সরকারই এখনো বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন, যেখানে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
জানুয়ারিতে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক মন্দার ফলে দেশটির সরকার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এখন তেহরানের জন্য জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এর মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের অভিজাত বাহিনী আইআরজিসি-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এখনো কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। তিনি রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সতর্ক করেছেন যে, যেকোনো ধরনের আক্রমণ পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের যুদ্ধ ডেকে আনবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক