গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব নিরাপদ নয় : ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কোনোভাবে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়ে ট্রান্স-আটলান্টিক জোটকে পরীক্ষায় ফেলেছেন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ডটি দখলে ওয়াশিংটনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড পরিকল্পনার বিরোধিতাকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন শুল্কারোপের হুমকিকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন জার্মান ও ফরাসি নেতারা। তারা আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বলেছেন, ইউরোপ বাণিজ্য খাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি জরুরি শীর্ষ সম্মেলন করছে তারা। যদিও তাদের অগ্রাধিকার উত্তেজনা বাড়তে না দেওয়া, প্রয়োজনে তারা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
গ্রিনল্যান্ড বলেছে, শুল্কারোপের হুমকি তাদের নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার আকাঙ্ক্ষাকে পরিবর্তন করবে না।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, আমরা চাপের মুখে থাকব না। স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল একটি গণতান্ত্রিক সমাজ, যার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরকে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বিশ্ব নিরাপদ নয়।
বার্তাটি সোমবার প্রকাশ করা হয়েছে। এটির সত্যতা এএফপিকে নিশ্চিত করেছে প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরের কার্যালয়।
গত বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিততে না পারার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমি আর শান্তির কথা ভাবার বাধ্যবাধকতা অনুভব করি না। যদিও শান্তির বিষয়টি এখনও প্রধান্য পাবে, তবুও এখন থেকে দেখব যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কী ভালো ও উপযুক্ত।
প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোর জোর দিয়ে বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার নরওয়ের সরকার প্রদান করে না। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি, পুরস্কারটি একটি স্বাধীন নোবেল কমিটি প্রদান করে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এ শুল্ক আরও বাড়তে পারে।
জার্মানির ভাইস চ্যান্সেলর লার্স ক্লিংবেইল এ পদক্ষেপকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান। তিনি সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বলেছেন, ইউরোপ পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ফরাসি অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেসকিউর এক সংবাদ সম্মেলনে কিংবেইলের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি স্থগিত করা হবে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির ওপর ইউরোপীয় শুল্ক, যা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে, তা কার্যকর করা হতে পারে। তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইলের’ বিরুদ্ধে ইইউ কৌশল গ্রহণের কথা বিবেচনা করতে পারে।
সোমবার সপ্তাহের লেনদেন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের শেয়ারবাজারে পতন ঘটেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কায়ার স্টারমার সতর্ক করে বলেছেন, বাণিজ্য যুদ্ধে কারও স্বার্থ হবে না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক