নারীদের কাঁদিয়ে টাকা পান পুরুষরা!
নারীদের কাঁদানোর জন্যই পয়সা দেওয়া হয় পুরুষদের! আর মজার ব্যাপার হলো সেই পুরুষেরা সবাই সুদর্শন। কেননা, সুদর্শন পুরুষদের প্রতিই নাকি নারীরা বেশি আবেগপ্রবণ হয়।
নারীকে কাঁদানো যেকোনো পুরুষের জন্য নিশ্চয়ই কোনো কাজের কথা নয়। তবে উদ্যোক্তা হিরোকি তেরাই এটাকে কিছু মনেই করেন না। শত হলেও এর জন্য টাকা পান তিনি। শুধু তিনিই নন, তাঁর সঙ্গে এই কাজ করছেন আরো কয়েকজন।
শুনতে অবাক লাগলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে এমনই এক অদ্ভুত ব্যবসা করছেন হিরোকি তেরাই। ১১টি বইয়ের লেখক তেরাই ২০১৫ থেকে এই ব্যবসা করছেন। হ্যাঁ, কান্নার সেবা দিয়ে থাকে তাঁর এই সংস্থা।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা নারীদের ‘কান্নার খোঁজে ’ নামে একটি থেরাপি দিয়ে থাকেন। তাঁদের মতে, কান্নার ফলে যাবতীয় দুঃখ, হতাশা, ক্লান্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন নারীরা। অনেক গবেষণার পর তেরাই তাঁর নিজস্ব এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যার ফলে তাঁর কাছে আসা গ্রাহকদের কাঁদানো যায়।
তেরাইয়ের এই পদ্ধতিটিও মজার। কাঁদানোর জন্যে তিনি বাছাই করেন সুদর্শন পুরুষদের সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুদর্শন পুরুষদের প্রতি নারীদের আবেগীয় যোগাযোগ দ্রুত হয়, যার ফলে নারীরা দ্রুত আবেগী হয়ে পড়ে। যা তাদের কাঁদতে সাহায্য করে।
তেরাইয়ের বেশির ভাগ গ্রাহকই বিবাহবিচ্ছেদের শিকার নারী। এই কারণেই তেরাই বিশ্বাস করেন, এই থেরাপি মানুষের মনকে গোছাতে এবং পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, ‘বিয়ের জন্য কিছু আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সেই মানুষটিকে ছাড়া পথ চলতে গিয়ে মানুষ দিশেহারা হয়ে যায়।’
শুধু তাই না, অভিজাত নারীদের কাছেও তেরাই অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি বলেন, ‘অনেকেরই কর্মক্ষেত্রে প্রচণ্ড চাপ থাকে এবং এই হতাশা দূর করার জন্য কোনো সঙ্গী থাকে না। তাহলে কেন কাঁদবেন না? তাই না?’
প্রাপ্তবয়স্কদের কান্না নিয়ে ৩৭টি দেশের মধ্যে করা আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যেই কান্নার হার বেশি।

এনডিটিভি