যাতায়াতের সময়ও কর্মঘণ্টার মধ্যেই রাখতে হবে
প্রতিদিন অফিসের দিকে যাত্রা শুরু হয় কর্মঘণ্টা শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে। আবার অফিস শেষে ফেরার পথেও ব্যয় হয় কয়েক ঘণ্টা। প্রতিদিনই অফিসে যাতায়াতে এভাবে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। তাই কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টা হলেও তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। মূল্যবান সময়ের এমন অপচয় রাজধানীর চাকরিজীবীদের কাছে নিত্যনৈমিক ঘটনা।
বাংলাদেশের চাকরিজীবীদের কষ্ট সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান না বুঝলেও ইউরোপের মানুষের কষ্ট ঠিকই বুঝতে পেরেছেন সেখানকার আদালত। তাই যাতায়াতের সময়কেও কর্মঘণ্টার মধ্যে অন্তর্ভুক্তের এক আইনের পক্ষে মত দিয়েছেন ইউরোপের আদালত।
ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালত দি ইউরোপীয় কোর্ট অব জাস্টিসের (ইসিজে) নির্দেশ অনুযায়ী, ইউরোপের সব কর্মজীবীর কর্মস্থলে যাতায়াতে যে সময় ব্যয় হয়, তা এক আইন অনুযায়ী কর্মঘণ্টা হিসেবে গণ্য হবে।
নির্ধারিত অফিসবিহীন কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে কোনো স্থানে যাওয়ার ক্ষেত্রে যত সময় ব্যয়, তা কর্মঘণ্টার হিসেবে ধরতে হবে। এর মানে হলো বৈদ্যুতিক, গ্যাস বা অন্য কোনো যন্ত্রপাতি সারাইকারী, সেবাকর্মী ও বিক্রয় প্রতিনিধিরা স্থানীয় কোনো অফিস ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার ক্ষেত্রে যে সময় ব্যয় হয়, তা ইউরোপীয় আইনে কর্মঘণ্টার মধ্যেই পড়বে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মচারীদের জন্য ‘স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা’ আইন অনুযায়ী যাতায়াতের সময়ও কর্মঘণ্টার মধ্যে পড়ে। তবে টিকো নামে স্পেনের একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে আইনি লড়াই চলে। অবশেষে আইনের পক্ষেই অবস্থান নেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালত ইসিজে।
ইসিজের নির্দেশ অনুযায়ী, কর্মচারীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিধান করা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানেরই দায়িত্ব। তাই কর্মচারীদের সর্বনিম্ন অবসর সময় দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই।

অনলাইন ডেস্ক