মমতা তারকাদের হাতের পুতুল করে রেখেছেন : লকেট
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে বইছে ভোটের হাওয়া। নির্বাচনে রাজনীতির কারবারিদের পাশাপাশি রুপালি জগতের তারকারাও প্রার্থী হয়েছেন। ডান, বাম কেউই পিছিয়ে নেই তারকাদের প্রার্থী করার দৌড়ে।
এই তারকাদের ভিড়েই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির (ভারতীয় জনতা পার্টি) অন্যতম মুখ টালিউড অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। এবারের ভোটের ময়দানে বীরভুম জেলার ময়ূরেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। ভোট ময়দানের প্রচারে নামার আগেই কোমর বেঁধে প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত তিনি।
প্রচারে নামার আগেই আজ শনিবার লকেট সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়ে দিলেন, গত পাঁচ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যে নারী নির্যাতন, আইন শৃঙ্খলার অবনতি আর শিল্পের বেহাল দশাকে হাতিয়ার করে প্রচার চালাতে চান তিনি। লাল মাটির দেশ বীরভুম রাজ্যেকে সন্ত্রাসের বধ্যভূমি বলে মনে করেন তিনি।
তবে বীরভুমে এখনো মেয়েরা নিরাপদ নন, কৃষকদের ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলের স্বজন পোষণ, দিনে-দুপুরে বোমা-গুলির লড়াই চলে বলে অভিযোগ তুলে লকেট বলেন, ‘এসবের বিরুদ্ধেই আমার লড়াই।’ আরো বলেন, ‘এর আগে বীরভুমে সাত্তোরে সন্ত্রাসের ঘটনায় যেভাবে অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলাম, সেইভাবেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করাকেই জারি রাখতে চাই।’
লকেট জানালেন, জীবনে চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন তিনি। সেজন্যই এবারের ভোটে প্রার্থী হয়ে মানুষকে প্রতিবাদের ভাষা শেখাতে চান তিনি। নিজের কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে। এলাকায় শান্তি ফেরানো আর মহিলাদের নিরাপত্তাকে সুদৃঢ় করাই তাঁর একমাত্র পণ। নিজে একজন অভিনেত্রী হলেও তাঁর কাছে মানুষের জন্য কাজ করাটাই প্রথম লক্ষ্য।
লকেট জানালেন, এখন সেভাবে আর অভিনয় করেন না। তা ছাড়া জনপ্রতিনিধি হলে তাঁর অভিনয়ের কেরিয়ারেও কোনো প্রভাব পড়বে না। দলের ইচ্ছেতেই তিনি যে প্রার্থী হয়েছেন সে কথাও জানিয়ে দিয়ে লকেট বলেন, ‘প্রার্থী হওয়ার জন্য আমি কোনো বায়োডাটা জমা দেইনি। ভোটে টিকেট পাওয়ার জন্যও আমি রাজনীতিতে নাম লেখাইনি। দল চেয়েছে তাই প্রার্থী হয়েছি। আর ভোটে জিতলে এলাকার মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যেতে চাই আমি।’
ভোটে জিততে পারলে নিজের স্বাতন্ত্রতাকে বজায় রেখে কাজ করে যেতে চান লকেট। বললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভা নির্বাচনে যে সব তারকাকে প্রার্থী করেছিলেন এখন তাঁদের হাতের পুতুল করে রেখেছেন তিনি। উনি যেটা বলবেন সবাইকে সেটাই শুনতে হয়। কিন্তু আমাদের দল বিজেপিতে সেই রকম হয় না। আমাদের কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়।
লকেট অভিযোগ করে বলেন, তিনি বিজেপির হয়ে প্রার্থী হওয়ায় টালিউড ইন্ড্রাস্ট্রির কেউই তাঁকে শুভেচ্ছা জানানোর সাহস পাননি। বলেন, ‘আমি টালিউড ইন্ড্রাস্ট্রিতে কাজ করেছি, তাই আমি জানি, কী রকম রাজনৈতিক চাপ থাকে ওখানে। কাজ চলে যাওয়ার ভয় থাকে। যে কারণেই আমাকে শুভেচ্ছা জানালে সমস্যা হবে এই ভয়ে অনেকেই আমাকে শুভেচ্ছা জানাননি।’ তবে তার জন্য আমার এতটুকু মন খারাপ নেই। নিজের নির্বাচনী প্রচারে টালিউডের তারকারা যে আসতে পারবেন না সেই কথাও প্রচারে নামার আগেই জানিয়ে দিলেন লকেট। তবে প্রার্থী হয়ে চাপ একটু যে বেড়েছে সেকথা নিজের মুখেই স্বীকার করে নিলেন তিনি। জানালেন, প্রার্থী হওয়া মানেই তো দায়িত্ব বেড়ে যাওয়া।
তবে ভোটে প্রার্থী হয়ে খাওয়া-দাওয়ার দিকে এবারে নজর দিতে চান লকেট। বলেন, ‘আগে শুটিং করার সময় ঠিকমতো খাওয়াই হতো না। কিন্তু ভোট প্রচারে নামলে এবার বেশি বেশি করে খেতে হবে। না হলে অসুস্থ হয়ে পড়ব।’ তা ছাড়া প্রচারে রোদে রোদে ঘুরে গ্ল্যামার নষ্ট হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে আপাতত ভাবতে চাননা লকেট। বলেন, ‘আমার ত্বক গড গিফটেড। তাই কোনো দিনই আমি আলাদা করে ত্বকের যত্ন নিতাম না। এখনো নেওয়ার দরকার পড়বে না।’

কলকাতা সংবাদদাতা