কঙ্গোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলা, পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের দ্রুত বিস্তারকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা এমএসএফ (মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের)। প্রাদুর্ভাব ঘোষণার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে এক হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এমএসএফের উপপরিচালক ডা. অ্যালান গনজালেস স্থানীয় সময় শনিবার (৩০ মে) এক বিবৃতিতে বলেন, ইবোলার কোনো প্রাদুর্ভাবে ঘোষণার এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি সংক্রমণ আগে কখনও দেখা যায়নি।
বর্তমানে ডিআর কঙ্গোতে এক হাজারের বেশি সন্দেহভাজন ইবোলা আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এতে অন্তত ২৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশী উগান্ডাতেও নয়জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে।
গনজালেস বলেন, প্রতিদিন নতুন নতুন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হলেও শত শত নমুনা এখনও পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না।
গনজালেস আরও জানান, সীমান্ত ও বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ছে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক ডা. টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস শনিবার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইতুরি প্রদেশ সফর করেছেন। প্রাদেশিক রাজধানী বুনিয়ায় পৌঁছে তিনি বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে সহায়তা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই সফর।
তিনি স্থানীয় জনগণকে রোগ প্রতিরোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইবোলায় মৃত ব্যক্তির মরদেহ স্পর্শ না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এমন আচরণ ভাইরাসের সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বুনিয়া শহরে জনজীবন এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। বিমানবন্দরে যাত্রীদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং স্থানীয় ভাষা ও ফরাসি ভাষায় স্বাস্থ্যবিষয়ক সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুনিয়ার গবেষণাগারে এখন ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরীক্ষার ফল পাওয়া যাচ্ছে। আগে নমুনা পরীক্ষার জন্য রাজধানী কিনশাসায় পাঠাতে হতো, যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় চিকিৎসা কার্যক্রমে বিলম্ব ঘটত।
অন্যদিকে ব্রাজিলের সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যে ইবোলার একজন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। ডিআর কঙ্গো থেকে সম্প্রতি ফেরা ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার বিরল ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরন, যার কোনো কার্যকর টিকা এখনও অনুমোদিত হয়নি। এই ভাইরাসে আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যু ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বমি, ডায়রিয়া, লালা, ঘাম বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এলে রোগটি ছড়াতে পারে। এছাড়া দূষিত পোশাক, বিছানাপত্র বা চিকিৎসা সরঞ্জামের মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক