ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করতে সম্মত, দাবি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন নিশ্চয়তা তিনি তেহরানের কাছ থেকে আদায় করেছেন। তবে এর মাঝেই খবর এসেছে, তিনি ইরানের কাছে আরও কঠোর শর্তসহ একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। ফলে কয়েক সপ্তাহের প্রচেষ্টা, তিক্ত বাক্যবিনিময় ও মাঝেমধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক পথ খুলে দেওয়ার চুক্তিটি আরও বিলম্বিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর এএফপির।
ট্রাম্পের নতুন ‘কঠোর’ শর্ত ও দাবি
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানের বিবেচনার জন্য কঠোরতর শর্তসহ একটি নতুন প্রস্তাব ফেরত পাঠিয়েছেন। ফক্স নিউজে তাঁর পুত্রবধূ লারা ট্রাম্পকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার যে একটিমাত্র নিশ্চয়তা প্রয়োজন, তা হলো কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। তারা এতে সম্মত হয়েছে ও বিষয়টি খুবই আকর্ষণীয় ছিল।’ ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখা ও অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া।
তেহরানের ভিন্ন সুর
ট্রাম্প চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ দেখালেও তেহরান তাঁর এই দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। ইরানের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সারগর্ভ আলোচনায় যাওয়ার আগে তাদের জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ধ্বংস করার বিষয়ে ট্রাম্পের আগের মন্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে তারা। তেহরান আরও জোর দিয়ে বলেছে, যুদ্ধের যেকোনো অবসানে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে কোনো তাড়া নেই উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি আমরা যা চাই তা না পাই, তবে এর সমাপ্তি অন্যভাবে হবে।’ পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথের সুরেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে ওয়াশিংটন অত্যন্ত সক্ষম। উল্লেখ্য, এপ্রিলে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর বড় হামলা কমলেও মাঝে মাঝে দুই পক্ষের সংঘাত চলছে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী তাদের জলসীমায় একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র তা নিশ্চিত করেনি। এছাড়া চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দর আব্বাসে হামলা চালালে ইরানও পাল্টা গুলি চালায়।
হরমুজ প্রণালি ও টোল বিতর্ক
হরমুজ প্রণালির চারপাশে দুই দেশের অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ও বিশ্ব অর্থনীতি হুমকিতে পড়েছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছিলেন, অবরোধ তুলে নিলে ইরান এই প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজের ওপর কোনো টোল (মাশুল) আরোপ করবে না।
তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, চুক্তির খসড়ায় এমন কোনো ধারা নেই। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার একটি পরিকল্পনা দেশটির সংসদে শিগগিরই অনুমোদিত হতে যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক