২৬ দিন পর অনশন ভাঙলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক
ভারতে বহুল আলোচিত ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে পালন করা টানা ২৬ দিনের অনশন ভেঙেছেন জলবায়ু ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না- সরকারের পক্ষ থেকে এমন সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরেই তিনি অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। খবর এনডিটিভির।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে অনশন ভঙ্গের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সোনম ওয়াংচুকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লেখেন, আমি সোনম জি-কে অনুরোধ জানাচ্ছি তিনি যেন চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলেন এবং দ্রুত আগের মতো স্বাস্থ্য ও ওজন ফিরে পান। একই সঙ্গে তার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করছি।
গত ২৮ জুন থেকে অনশনে থাকা ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী জে পি নাড্ডা, জিতেন্দ্র সিং, লেহ-লাদাখ অ্যাপেক্স বডির শীর্ষ নেতা, চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভাঙেন। এ সময় দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিজ হাতে তাকে জুস খাইয়ে দেন। অনশন ভেঙে আবেগপ্লুত ওয়াংচুক মন্ত্রীদের হাত ধরে ধন্যবাদ জানান এবং পাশে থাকার জন্য স্ত্রী গীতাঞ্জলির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা সরকারের একাধিক ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূণভাবে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারী বা সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রশ্নফাঁস বন্ধে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ বা দ্রুত বিচার আদালত গঠন, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং সম্প্রতি প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
অন্যদিকে এই আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহারকে স্বস্তিদায়ক বলে বর্ণনা করেছেন। ওয়াংচুকের অপরিসীম আত্মত্যাগের প্রশংসা করলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এক পৃথক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রশ্নফাঁসকে চরম বেদনাদায়ক আখ্যা দিয়ে জানান, অপরাধীদের ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই পার্লামেন্টে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ আদালত সংক্রান্ত বিল এনে তা দ্রুত পাসের চেষ্টা করা হবে যাতে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট না হয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক