বিলাসবহুল জীবনের খরচ মেটাতে এক মাসের শিশু ‘বিক্রি’
ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের এক দম্পতি তাদের এক মাস বয়সী সন্তানকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার রুপি মূল্যে ‘বিক্রি’ করে দিয়েছেন। তবে এর পেছনের কারণ অভাব-অনটন বা কোনো ‘প্রয়োজন’ ছিল না। খবর এনডিটিভির।
পুলিশ ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে। ছত্রপতি সম্ভাজিনগর থেকে ৫৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে হায়দরাবাদ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শিশুটির বাবা-মা তাদের বিলাসবহুল জীবনযাপন ও শখের খরচ মেটাতে, বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণের চেইন কেনার উদ্দেশ্যে নিজেদের সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। উদ্ধার হওয়ার আগে শিশুটি বিভিন্ন ব্যক্তির হাত ঘুরে মোট চারবার কেনা-বেচা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, শিশুটির বাবা-মা ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কে ছিলেন এবং ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের মুকুন্দওয়াড়ি এলাকায় বসবাস করতেন। বিলাসী জীবনযাপনের খরচ জোগাতে তারা শিশুটিকে সীমা রেশওয়াল নামের একজনের কাছে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে বিক্রি করে দেন। এরপর সীমা শিশুটিকে পাড়েগাঁওয়ের বাসিন্দা সঙ্গীতা আভাড নামের আরেক নারীর কাছে ২ লাখ ৭০ হাজার রুপিতে বিক্রি করে দেন।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। এরপর শিশুটিকে আবারও হাতবদল করা হয়; সঙ্গীতা শিশুটিকে নিয়ে সুরেশ গুন্টুকা নামের এক ভুয়া ডাক্তারের কাছে ৩ লাখ ৫০ রুপিতে বিক্রি করে দেন। ওই ভুয়া ডাক্তার পরে শিশুটিকে হায়দরাবাদে বসবাসকারী উমা খাটকাম নামের এক আত্মীয়ের কাছে ৩ লাখ ৫০ হাজার রুপিতে বিক্রি করেন।
যেহেতু শিশুটিকে সর্বশেষ হায়দরাবাদের এক বাসিন্দার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল, তাই পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে। শিশুটিকে মহারাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
শিশুটির জন্মদাতা বাবা-মা এবং এই লেনদেনের সঙ্গে জড়িত চারজনের বিরুদ্ধে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করেছেন পুন্ডলিকনগর থানার পরিদর্শক বিবেক সোনাওয়ানে।
পুলিশ ইতোমধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে; এদের মধ্যে রয়েছেন শিশুটির বাবা-মা, দালাল সীমা রেশওয়াল ও সঙ্গীতা আভাড (পাড়েগাঁওয়ের বাসিন্দা) এবং ভুয়া ডাক্তার সুরেশ গুন্টুকা।
সন্তান বিক্রির টাকায় কেনা দুটি নতুন দামি মোবাইল ফোন এবং একটি স্বর্ণের চেইন পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা অতীতে অন্য কোনো শিশু বিক্রি করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক