ভোটে দাঁড়ালেও ফিল্ম ক্যারিয়ার থাকবে : সোহম
টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী বলেন, ‘রাজনীতি বা নির্বাচনের মঞ্চটা বেশ কঠিন। তবে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে মানুষের সেবা করার জন্য একটা জায়গা খুলে গেল। আর ভোটে দাঁড়ালেও আমার ফিল্ম ক্যারিয়ার থাকবে। আগে বছরে চারটে ছবি করতাম, এখন হয়তো দুটি ছবি করব। ভোটে দাঁড়িয়েছি বলে ক্যারিয়ারকে স্যাক্রিফাইস করার কোনো প্রশ্নই নেই।’
চূড়ান্ত ভোট প্রচারের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের কাছে এ কথা বলেন অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। বিধানসভা নির্বাচনে এবারে বাঁকুড়া জেলার বড়জোরা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। আগামী ১১ এপ্রিল এই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ। এখন থেকেই জোর কদমে শুরু হয়েছে তাঁর নির্বাচনী প্রচার।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচারের ময়দানে ঘাম ঝরাচ্ছেন সোহম চক্রবর্তী। শরীর খারাপ হয়ে যাওয়ার ভয়ে অবশ্য দুপুরের দিকটাতে একটু-আধটু বিশ্রাম নিচ্ছেন তিনি। তবে এই কদিনে ভোট প্রচারে নেমে বেশ খুশি সোহম। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগে নির্বাচনে অন্যের হয়ে প্রচার করেছি। এবার নিজে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারছি, প্রচারের কাজটা কত কঠিন।
অভিনয় জগৎ থেকে মাত্র ৩২ বছর বয়সে সরাসরি রাজনীতিতে নেমে পড়েছেন সোহম। তবে রাজনীতিতে নেমে বেশ খুশি তিনি। সোহম বলেন, ‘জীবনের একটা নতুন অধ্যায় শুরু হলো। আমি প্রার্থী হওয়ায় আমার মা-বাবার চোখে পানি চলে এসেছে। সবাই আমাকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) যে আমার ওপর এত বড় দায়িত্ব দেবেন, তা ভাবতে পারিনি। অভিনয় জগৎ থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে নামার আগে একটাই টিপস নিয়েছেন সোহম। তা হলো, মাথা যেন ঠান্ডা থাকে।

ভোট প্রচারে বেরিয়ে শুধু মানুষের ভালোবাসাই পাচ্ছেন না, প্রচারের মঞ্চে সংলাপ ও নাচার অনুরোধও আসছে। অতিকষ্টে মানুষকে বোঝাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মানুষকে বলছি, আমি অভিনেতা হিসেবে ভোট প্রচারে আসিনি।’ ভোটে জিতলে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চান সোহম। তিনি বলেন, ‘মানুষ আমার কাছ থেকে হিরোসুলভ অনেক কিছুই আশা করছেন। কিন্তু আমি জিতে তো রাতারাতি মানুষের জন্য সমস্যার সমাধান করে দিতে পারব না। তবে যতটা সুযোগ পাব, ততটা নিশ্চয়ই করব। মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দিতে পারব না আমি। ভোটের সময় মানুষের কাছে আসব, আর ভোট ফুরোলেই কলকাতায় বসে থাকব, সে জন্য রাজনীতিতে নামিনি। কিছুদিনের মধ্যেই সাধারণ মানুষ অভিনেতা সোহমের জায়গায়, নেতা সোহমকেই ভালোবাসবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

কলকাতা সংবাদদাতা