‘বাংলাদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত’ আট ভারতীয় জঙ্গির আত্মসমর্পণ
আট সশস্ত্র জঙ্গি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। বিএসএফের বরাত দিয়ে ভারতের বার্তা সংস্থা আইএএনএস জানিয়েছে, এই আটজন বাংলাদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। গতকাল রোববার ত্রিপুরায় অস্ত্র ও গোলাসহ এই আট ব্যক্তি বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
বিএসএফের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট লক্ষ্য মেহতা বলেন, ‘ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অব ত্রিপুরার (এনএলএফটি) আটজন সদস্য ত্রিপুরার সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে লুকিয়ে ছিলেন। পরে গতকাল ত্রিপুরার শ্যাওয়ারামপার সীমান্ত চৌকিতে এসে বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তাঁরা।’
এ সময় এনএলএফটির গেরিলারা একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, একটি এ কে ৪৭ রাইফেল, ছয়টি গুলিভর্তি ম্যাগাজিন, তিনটি চীনের তৈরি গ্রেনেড এবং একটি বড় বাক্সভর্তি গুলি ও ধারালো অস্ত্রও জমা দেন।
ত্রিপুরার এই বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনটি এই মুহূর্তে বেশ অর্থ সংকটে পড়েছে এবং সংগঠনের নিচের দিকের কর্মীদের অবস্থা বেশ শোচনীয় বলে জানান লক্ষ্য মেহতা। তার ওপর এই আত্মসমর্পণ দলের ভেতর বেশ আঘাত হানবে বলে মনে করেন এই বিএসএফ কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশটির সীমান্তবর্তী রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায়র পাহাড়গুলোতে যৌথ অভিযান জোরদার করেছে। ফলে ওই সব জায়গায় এনএলএফটি সদস্যদের আত্মগোপনে থাকা বেশ কঠিন হয়ে গেছে।’
আইএএনএস জানিয়েছে, আত্মসমর্পণ করা বিদ্রোহী সংগঠনের সদস্যদের পুলিশ এবং গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এনএলটিএফ এবং অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স (এটিটিএফ) নামের আরেকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থেকে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নেয়। এই দুটি সংগঠনই ১৯৯৭ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ত্রিপুরাকে ভারতের মানচিত্র থেকে আলাদা করে নিতেই সশস্ত্র আন্দোলন করছিল সংগঠন দুটি। যদিও এটিটিএফের বেশির ভাগ সদস্যই আত্মসমর্পণ করেছে এবং এদের অস্তিত্ব প্রকাশ্যে তেমন খুঁজে পাওয়া যায় না।

অনলাইন ডেস্ক