আতশবাজিতে বছরে ২০ হাজার কোটি রুপি খরচ কেরালার মন্দিরগুলোর
কেরালা রাজ্যের মন্দিরগুলো শুধু আতশবাজি উৎসব করেই বছরে ২০ হাজার কোটি রুপির বেশি খরচ করছে। বাণিজ্যিক কারণে অনেক ব্যক্তি ও করপোরেটরা এই খরচের জোগান দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের এক বিজেপি নেতা অ্যাডভোকেট এস জয়াসুরিয়া।
ভারতের সংবাদপত্র ডেকান ক্রনিকল অনলাইনে আজ মঙ্গলবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আট বছর আগে বার্ষিক আতশবাজি উৎসবে কেরালা রাজ্যে যে পরিমাণ খরচ হতো, এখন তার দ্বিগুণ ব্যয় হচ্ছে। তখন আতশবাজি উৎসবে ১০ হাজার কোটি রুপির বেশি খরচ হতো (এক রুপি = এক টাকা ২০ পয়সা)।
কেরালার মন্দিরগুলোর উৎসবের ব্যয় নিয়ে হিসাব কষেছেন জয়াসুরিয়া। তিনি বলেন, ‘আগে শুধু মন্দিরগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো। কিন্তু একক ব্যক্তি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠান এ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে।’
বাণিজ্যিক কারণে এসব উৎসবে মন্দির কর্তৃপক্ষের উৎসাহ বাড়ছে বলে মনে করেন জয়াসুরিয়া। তিনি বলেন, উৎসবের আয়োজকদের ঠিকাদাররা পৃষ্ঠপোষক খুঁজে দেওয়ার কথা বলে প্রভাবিত করে। আর যখন পৃষ্ঠপোষক পাওয়া যায়, তখন ব্যাপক প্রচার চলে। এতে পৃষ্ঠপোষক পাওয়া ওই সব মন্দিরে উপাসক আগমনও বাড়তে থাকে। এতে মন্দিরের আয় বাড়ে। আর এ সময় মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রকমের বাণিজ্যও বাড়ে। এভাবে বেশি আয় করার জন্য মন্দিরগুলো এক রকমের ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।’
আতশবাজি উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দিরগুলোর আয় বেড়ে যায় বলে জানান জয়াসুরিয়া। তাঁর মতে, প্রতিবছর আতশবাজির প্রদর্শনী জোরেশোরে আয়োজন করার পেছনেও কারণ রয়েছে।
জয়াসুরিয়া বলেন, ‘উৎসব কমিটি সাধারণত তিন বছরের জন্য গঠিত হয়। তাই আগের কমিটির চেয়ে বড় করে আয়োজনের প্রবণতা থাকে নতুন কমিটির মধ্যে।’
২০০৮ সালে কেরালার ৩৬ হাজার ৪০০ মন্দিরে অন্তত ১০ হাজার ৪০৮ কোটি ৪২ লাখ রুপি খরচ করা হয়েছিল। বর্তমানে এই খরচ ২০ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়েছে বলে মনে করেন জয়াসুরিয়া।
প্রসঙ্গত, গত ৯ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩টার দিকে কেরালার কোল্লাম জেলার পুট্টিঙ্গল মন্দিরের আতশবাজি উৎসবের সময় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়।

অনলাইন ডেস্ক