পাঞ্জাব সীমান্তে ভারতের লেজার রশ্মির বেড়া
দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে সীমান্ত এলাকায় লেজার রশ্মির বেড়া দিল ভারত। সীমান্ত সন্ত্রাস ঠেকাতে কাঁটাতারের ওপর আর ভরসা না করে ভারতের পাঞ্জাব সীমান্তে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই লেজার রশ্মির বেড়া দিয়েছে। এর মাধ্যমে শত্রুপক্ষের ওপর নজরদারি চালাতে এবং জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আরো তৎপর হলো ভারত।
ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের পাক-ভারত সীমান্ত বরাবর দুর্গম এলাকায় মোট আটটি জায়গায় আপাতত এ লেজার রশ্মির বেড়া বসানো হয়েছে, যা এরই মধ্যে কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে। এই পাঞ্জাব সীমান্তের বেশ কয়েকটি জায়গায় এ পর্যন্ত কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া না দেওয়ার ফলে রাতের পর রাত জেগে ওই সব অঞ্চল পাহারা দিতে হতো বিএসএফ জওয়ানদের। তা সত্ত্বেও এসব সীমান্ত দিয়ে নাশকতার উদ্দেশ্যে জঙ্গিরা যেমন ভারতে ঢুকে পড়ত বলে অভিযোগ ছিল, তেমনি পাকিস্তান থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগও উঠত। যে কারণে দুই বছর আগে পাক-ভারত সীমান্তের এসব এলাকায় লেজার রশ্মির বেড়া তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কিছুদিন আগে পাঞ্জাবের পাঠানকোটে জঙ্গি হামলার পর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার তৎপরতা বাড়ে। জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তড়িঘড়ি করে অত্যাধুনিক লেজার রশ্মির বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মূলত পাক-ভারত সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় যেসব বিপজ্জনক ঢাল রয়েছে, সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া এতদিন সম্ভব হয়নি। সেসব জায়গায় এবার উপগ্রহ নিয়ন্ত্রিত এই অত্যাধুনিক লেজার রশ্মির জাল বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই জালের মধ্যে অবৈধ গতিবিধি টের পেলেই সেন্সর সংকেত চলে যাবে কমান্ড সিস্টেমে। নিখুঁত এই সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৎপর হয়ে উঠবেন বিএসএফের জওয়ানরা। কাঁটাতারের বেড়া কেটে ফেলা গেলেও মূলত আলোক রশ্মির এই লেজার ওয়াল কোনোভাবেই কেটে ফেলা সম্ভব নয়। সীমান্ত পার হতে গেলে লেজার রশ্মির সংস্পর্শে আসতেই হবে। আর সংস্পর্শে এলেই বিএসএফের কাছে পৌঁছে যাবে সংকেত। অন্ধকারের মধ্যে তো বটেই, এমনকি ঘন কুয়াশার মধ্যেও দক্ষভাবে কাজ করবে এই লেজার রশ্মির বেড়া।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, স্যাটেলাইটনির্ভর এই সিগন্যাল কমান্ড সিস্টেমকে কাজে লাগিয়ে পাক-ভারত সীমান্তের ওই সব অঞ্চলকে এবার কড়া নজরদারির আওতায় নিয়ে আসা হবে। এরই মধ্যে পাঞ্জাব সীমান্তের আটটি জায়গায় লেজার রশ্মির ওয়াল সিস্টেম বসে গেছে এবং অ্যাকটিভও করা হয়েছে। বাকি চারটি কেন্দ্রের কাজ খুব শিগগির চালু হবে বলেও বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া আগামী দিনে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের মোট ৪৫টি জায়গায় এই লেজার রশ্মির বেড়া বসানো হবে। পাঞ্জাব ছাড়াও জম্মু-কাশ্মীর, রাজস্থান ও গুজরাটের অরক্ষিত সীমান্ত এ লেজার রশ্মির আওতায় নিয়ে আসা হবে। তার পর ধীরে ধীরে ভারতের বিভিন্ন সীমান্তে এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হবে বলেও জানা গেছে।

কলকাতা সংবাদদাতা