শাহজাহান-মমতাজের সমাধিতে ফাটল, জমেছে ধুলো!
বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি হলো তাজমহল। এর ভেতরেই শুয়ে আছেন মোঘল সম্রাট শাহজাহান আর তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ বেগম। শ্বেত পাথরের তৈরি অবাক করা সৌন্দর্যের এই বিরাট স্থাপনা দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো পর্যটক। এর বাহ্যিক রূপ আর স্থাপত্যশৈলী দেখে চোখ জুড়ান তাঁরা। অথচ যে কারণে এই নজরকাড়া স্থাপনা সেই শাহজাহান আর মমতাজের মূল সমাধিতেই ধরেছে ফাটল। দীর্ঘদিনের অযত্নে জমেছে ধুলোর আস্তরণ!
সারা বছর পর্যটকরা তাজমহলের ভেতরে যে সমাধি দেখেন তা মূলত নকল। এই যুগলের মূল সমাধি দেখতে হলে নামতে হয় ২৪ সিঁড়ি নিচে। তাজমহলের গোপন কুঠরিতে থাকা শাহজাহান ও মমতাজ বেগমের আসল সমাধিস্থলের দরজা খোলা হয় মাত্র বছরে তিনদিন। চলতি বছরেও সেই নিয়ম মেনে গত ৩ মে থেকে ৫ মে পর্যন্ত খোলা হয়েছিল আসল সমাধিক্ষেত্রের দরজা। ওই সময় যে সব দর্শনার্থী শাহজাহান ও মমতাজের আসল সমাধি দর্শন করেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই জানিয়েছেন, দুটি সমাধিই কালো হয়ে গেছে। কয়েকটি স্থানে ফাটলও দেখা দিয়েছে বলে দাবি দর্শনার্থীদের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশের পর চিন্তায় পড়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ধারণা, বছরের ৩৬২ দিন আলোর সংস্পর্শে না আসার কারণেই সমাধি দুটির শ্বেত পাথর ধীরে ধীরে কালো হয়ে যাচ্ছে।
সম্রাট শাহজাহানের প্রিয়তমা স্ত্রী বেগম মমতাজ মহলের মৃত্যুর পর তাঁর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবেই শাহজাহান তৈরি করেন সুদৃশ্য এই তাজমহল। পরে শাহজাহানের মৃত্যুর পর তাঁকেও এখানে দাফন করা হয়।
মোঘল আমলেই নির্দিষ্ট দিন ছাড়া এই দুইজনের সমাধিস্থলে প্রবেশ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এখনো সেই রীতি মেনে চলা হচ্ছে।
আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার আগ্রা সার্কেলের সুপারিনটেনডেন্ট বিশিষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক ভুবন বিক্রম জানিয়েছেন, আসল সমাধির ওপর ধুলোর আস্তরণ পড়েছে। ফলে শ্বেত পাথরে হলদে ভাব এসেছে। এ ছাড়া সমাধিক্ষেত্রের ভেতরে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকার কারণে ছত্রাক জন্ম নিয়ে আসল সমাধি দুটির শ্বেত পাথরে কালো ছোপ ধরেছে।

কলকাতা সংবাদদাতা