ট্রাম্পের হুমকির পরই সুর পাল্টালেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চান।
টেলিগ্রামে রদ্রিগেজ রোববার (৪ জানুয়ারি) লেখেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলার মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শ্রদ্ধাশীল সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাওয়াকে অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করি। উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা মার্কিন সরকারকে একটি সহযোগিতামূলক এজেন্ডা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাই।
নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আটক হওয়ার পর শনিবার ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। রদ্রিগেজ ২০১৮ সাল থেকে মাদুরোর ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শনিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে রদ্রিগেজ মার্কিন পদক্ষেপকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও নৃশংসতা’ বলে নিন্দা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘ভেনিজুয়েলার একমাত্র প্রেসিডেন্ট হলেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।’
শনিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত রদ্রিগেজের এই মন্তব্য অবশ্য ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করেছিল। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট মাদুরোর গ্রেপ্তারের পরপরই বলেছিলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা তার (রদ্রিগেজ) সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং তিনি সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক।
রোববার ভোরে দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সুর পরিবর্তন করে বলেন, ‘যদি সে সঠিক কাজ না করে, তাহলে তাকে অনেক বড় মূল্য দিতে হবে, সম্ভবত মাদুরোর চেয়েও বড়।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ভেনেজুয়েলায় আরও হামলা হতে পারে এবং তিনি ভেনেজুয়েলায় আরও সেনা অভিযান চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেবেন না। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, আমেরিকা এখন (ভেনেজুয়েলার) ‘দায়িত্বে’।
রোববার রদ্রিগেজ বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আটক অবস্থা থেকে মাদুরো ও ফ্লোরেসের মুক্তির জন্য একটি কমিশন গঠন করেছেন। কমিশনের সহসভাপতি হলেন ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল এবং তার ভাই ও জাতীয় পরিষদের সভাপতি জর্জ।
সোমবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে মাদুরোকে হাজির করার কথা রয়েছে। সেখানে মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক, সন্ত্রাসবাদ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক