আলেপ্পোতে এসডিএফের বিরুদ্ধে সিরীয় সেনাবাহিনীর হামলা জোরদার
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) যোদ্ধারা যুদ্ধবিরতির আওতায় সরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় সিরীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের তীব্র সংঘর্ষ চলছে। সহিংসতা থেকে বাঁচতে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপকভাবে বেসামরিক মানুষ এলাকা ছাড়ছে। খবর আল জাজিরার।
আলেপ্পোর জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আল-রাজাব আল জাজিরা আরবিকে জানান, আশরাফিয়াহ ও শেখ মাকসুদ এলাকা থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ৬২ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সিরীয় সামরিক সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু শেখ মাকসুদ এলাকায় সেনাবাহিনী ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ অর্জন করেছে এবং বর্তমানে প্রায় ৫৫ শতাংশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার পর শেখ মাকসুদে চালানো অভিযানে এসডিএফের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন লড়াই
তিন দিনের সংঘর্ষের পর শুক্রবার সকালে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল। কেন্দ্রীয় সরকার ও এসডিএফের মধ্যে কুর্দি বাহিনীকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়।
গত বছর বাশার আল-আসাদ উৎখাতের পর সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের শেষে দামেস্ক কুর্দি যোদ্ধাদের ছয় ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্বায়ত্তশাসিত এলাকায় সরে যেতে নির্দেশ দেয়। তবে শেখ মাকসুদ ও আশরাফিয়াহ এলাকার কুর্দি কাউন্সিলগুলো এই নির্দেশকে ‘আত্মসমর্পণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা রক্ষার অঙ্গীকার করে।
এরপর সেনাবাহিনী নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বাসিন্দাদের মানবিক করিডোর দিয়ে এলাকা ছাড়ার আহ্বান জানায়। প্রায় দুই ঘণ্টা পরই সেখানে নতুন করে গোলাবর্ষণ শুরু হয়।
এসডিএফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে, শেখ মাকসুদের খালেদ ফাজর হাসপাতালে গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যাকে তারা ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করে। তবে সিরীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, হাসপাতালটি অস্ত্রভাণ্ডার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
হতাহত ও বাস্তুচ্যুতি
মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে আলেপ্পোতে অন্তত ২২ জন নিহত ও ১৭৩ জন আহত হয়েছেন। সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে প্রায় এক লাখ ৫৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
কুর্দি-দামেস্ক টানাপোড়েন
এসডিএফ ও দামেস্কের মধ্যে গত মার্চে একটি সমঝোতা হলেও, কুর্দি বাহিনীকে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সিরীয় সরকার।
আল জাজিরার বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, কুর্দি বাহিনীকে কীভাবে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে—ব্যক্তি হিসেবে না দল হিসেবে—এই প্রশ্নে দুই পক্ষের মধ্যে বড় মতপার্থক্য রয়েছে।
তুরস্ক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই সংঘর্ষের মধ্যেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে ফোনালাপ করেন। সিরীয় প্রেসিডেন্সি জানায়, আলেপ্পোতে ‘অবৈধ সশস্ত্র উপস্থিতি’ শেষ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আল-শারা।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক আলেপ্পোর চলমান সহিংসতা নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে সব পক্ষকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক