স্পেনে উচ্চগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩৯
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে উচ্চগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বহু মানুষ। দেশটির সিভিল গার্ড জানিয়েছে, এটি গত এক দশকের মধ্যে স্পেনের সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা।
মাদ্রিদগামী একটি ট্রেনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত লাইনে ঢুকে পড়লে সামনে থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনাটি ঘটে কর্দোবা শহরের কাছে আদামুস এলাকায়। খবর বিবিসির।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই ট্রেন মিলিয়ে প্রায় ৪০০ জন যাত্রী ও কর্মী ছিলেন। আন্দালুসিয়ার জরুরি সেবার তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৭৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৪ জনের অবস্থা গুরুতর। এদের মধ্যে চার শিশুও রয়েছে।
স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করা সব রেল বিশেষজ্ঞই এই দুর্ঘটনায় ‘বিস্মিত’।
রেল নেটওয়ার্ক অপারেটর আদিফ জানিয়েছে, মালাগা থেকে মাদ্রিদের উদ্দেশে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর একটি সোজা লাইনে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় দ্বিতীয় ট্রেনের বগিগুলো পাশের ঢালে ছিটকে পড়ে।
দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেনটি ছিল ফ্রেচিয়া ১০০০ মডেলের, যা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। ইতালির রেল কোম্পানি ফেরোভিয়ে দেলো স্টাটো রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বগিগুলোর ভেতর থেকে আটকে পড়া মানুষকে বের করতে প্রচণ্ড বেগ পেতে হচ্ছে। কর্দোবার ফায়ার সার্ভিস প্রধান ফ্রান্সিসকো কারমোনা বলেন, কখনো কখনো কাউকে জীবিত উদ্ধার করতে আমাদের মৃতদেহ সরাতেও হয়েছে। কাজটা খুবই কঠিন।
ট্রেনের প্রথম বগিতে থাকা দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরটিভিই-এর সাংবাদিক সালভাদোর হিমেনেস বলেন, ধাক্কাটা ভূমিকম্পের মতো লেগেছিল। হঠাৎ করেই ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে সব রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পুরো দিন বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
রেল কোম্পানি ইরিয়ো জানিয়েছে, মালাগা থেকে আসা ট্রেনটিতে প্রায় ৩০০ জন যাত্রী ছিলেন, আর রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফে পরিচালিত অন্য ট্রেনটিতে ছিল প্রায় ১০০ জন।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী বলেছেন, তদন্তের ফল পেতে কমপক্ষে এক মাস সময় লাগতে পারে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, দেশটি ‘গভীর শোকের রাত’ পার করছে। আদামুসের মেয়র রাফায়েল মোরেনো ঘটনাটিকে ‘একটি দুঃস্বপ্ন’ বলে বর্ণনা করেন।
রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ ও রানি লেতিসিয়া এক বার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
আন্দালুসিয়ার জরুরি সংস্থা দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকে খবর দিতে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের নিরাপদ থাকার কথা জানাতে অনুরোধ জানিয়েছে।
রেড ক্রস ঘটনাস্থলে জরুরি সহায়তা দল পাঠিয়েছে এবং নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য মানসিক সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।
২০১৩ সালে স্পেনের গ্যালিসিয়ায় উচ্চগতির ট্রেন দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত হয়েছিল। স্পেনের উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম, যার দৈর্ঘ্য চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক