গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধস
গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী অবস্থান বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। তার সর্বশেষ হুমকির পর শেয়ারবাজার ও মার্কিন ডলার—দুটোই বড় ধাক্কা খেয়েছে।
চীন ও রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত তৎপরতার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’। এই যুক্তিতে তিনি ডেনমার্ক ও আরও সাতটি ইউরোপীয় দেশের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এই হুমকির প্রভাব পড়েছে সরাসরি বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে বাজারে। খবর আল জাজিরার।
ওয়াল স্ট্রিটে বড় পতন
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলোতে বড় ধস নামে। এস এন্ড পি ৫০০ কমেছে প্রায় ২.১ শতাংশ। এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পজিট নেমেছে প্রায় ২.৪ শতাংশে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ কমেছে প্রায় ১.৮ শতাংশ। এটি ছিল গত অক্টোবরের পর ওয়াল স্ট্রিটের সবচেয়ে খারাপ দিন।
বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত মার্কিন ডলারও চাপের মুখে পড়ে। প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলার ০.৮ শতাংশ দুর্বল হয়েছে।
অন্যদিকে অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণ বেড়ে গেছে প্রায় ২ শতাংশ এবং আউন্সপ্রতি দাম চার হাজার ৭০০ ডলারের ওপরে উঠে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
ইউরোপ ও এশিয়াতেও প্রভাব
ইউরোপের শেয়ারবাজারেও ধস নেমেছে। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ কমেছে প্রায় ০.৭ শতাংশ। ফ্রাঙ্কফুর্টের ডিএএক্স নেমেছে ১ শতাংশের বেশি।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) এশিয়ার বাজারেও এর রেশ পড়েছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক লেনদেনের শুরুতে ১ শতাংশের বেশি কমে যায়, যদিও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়।
ন্যাটো ও ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক নিয়ে শঙ্কা
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের অনড় অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ককে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় নিয়ে গেছে। বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, এতে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং ট্রান্সআটলান্টিক বাণিজ্য প্রবাহও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এমনকি ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি—যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক দুটোই ন্যাটোর সদস্য।
ডেনমার্ক বারবার বলেছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং শক্তি প্রয়োগ করে দখলের চেষ্টা হলে তা ন্যাটোর অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
ইইউর জরুরি বৈঠক
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে। সেখানে ট্রাম্পের হুমকির জবাবে কী করা যায়—তা নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন মেকানিজম’ চালু করার সম্ভাবনা, যা ব্যবহার করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, গ্রিনল্যান্ড পেতে তিনি কতদূর যেতে পারেন। তিনি শুধু বলেন, আপনারা দেখবেন।
ডাভোসে ইউরোপের বার্তা
বুধবার ট্রাম্প ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) বৈঠকে বসবেন। তিনি অবশ্য আশাবাদী, শেষ পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি চুক্তি হবে এবং সবকিছু ভালোভাবেই মিটে যাবে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন ডাভোসে বলেন, ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করতে প্রস্তুত, তবে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস হবে না।
উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, আমরা আমেরিকান জনগণকে শুধু মিত্র নয়, বন্ধু হিসেবেই দেখি। কিন্তু আমাদের এমন কোনো বিপজ্জনক পথে ঠেলে দেওয়া হলে তা আমাদের দু’পক্ষেরই শত্রুদের উপকার করবে। তাই আমাদের জবাব হবে দৃঢ়, ঐক্যবদ্ধ এবং যথোপযুক্ত।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক