গণবিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জনের মৃত্যুর খবর জানাল ইরান
দেশব্যাপী সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রথমবারের মতো দাপ্তরিক তথ্য প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২১ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি ফরেনসিক মেডিসিন অর্গানাইজেশনের বরাতে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটিতে চলমান অস্থিরতায় এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
তবে মানবাধিকার সংগঠন ও অ্যাক্টিভিস্টরা দাবি করেছেন, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। মূলত দেশজুড়ে দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে চালানো দমনপীড়নের কারণে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আড়ালে রয়ে গেছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
ইরানের শহীদ ফাউন্ডেশন ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ৩ হাজার ১১৭ জনের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহীদ’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বিক্ষোভের সময় নিহত ‘নির্দোষ’ সাধারণ নাগরিকরা রয়েছেন। অন্যদিকে, অবশিষ্ট ৬৯০ জনকে ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘দাঙ্গাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যারা সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছে তেহরান।
নরওয়ে ভিত্তিক সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি লাইভ অ্যামুনিশন ও ভারী মেশিনগান ব্যবহার করেছে। এছাড়া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে বাড়ির ছাদ থেকে গুলি চালানো হয়েছে। অনেকের চোখে সরাসরি গুলি করা হয়েছে।
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক মন্দা ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ক্ষমতাসীন ধর্মীয় নেতৃত্বের পতনের দাবিতে গত ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে নজিরবিহীন ধর্মঘট ও গণমিছিল শুরু হয়। তেহরান মিউনিসিপ্যালিটি বিক্ষোভের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরতে সম্প্রতি এক ডজন ভস্মীভূত বাসের ধ্বংসাবশেষ প্রদর্শন করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিক্ষোভ নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি— ইরানে যদি নতুন করে হত্যালীলা চলে, তবে তাদের এই পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে।’ এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর ওপর কোনো হামলা হলে তা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবে গণ্য হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক