ইরানে হামলার জন্য আকাশসীমা-ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না ইউএই
ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ‘শত্রুতাপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপে’ নিজেদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলপথ ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। খবর বার্তা সংস্থা আনাদুলোর।
এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আক্রমণের জন্য কোনো ধরনের সহায়তা না দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্বাস করে—বর্তমানের সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর ভিত্তি হলো সংলাপ, উত্তেজনা হ্রাস, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন। কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দিয়েছে উপসাগরীয় দেশটি।
অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি নিয়ে গত মাসে ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালাতে পারে, এমন জল্পনার মাঝে দেশটির বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং তার সঙ্গে তিনটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধবিমান শুক্রবার ওমান উপসাগর দিয়ে ভারত মহাসাগরে পৌঁছেছে।
শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ওয়াশিংটন ইরানের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
মার্কিন প্রশাসন বলেছে, তেহরানকে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে সামরিক পদক্ষেপসহ সব বিকল্পই বিবেচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চাইছে।
ইরানের কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আক্রমণের ‘দ্রুত ও ব্যাপক’ পরিসরে জবাব দেওয়া হবে।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু করে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার আগে তেহরানও প্রতিশোধ নিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক