গাজায় এমএসএফের মানবিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে ইসরায়েল
প্রতিষ্ঠানে থাকা ফিলিস্তিনি কর্মীদের তালিকা দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স’ (মেডিসিন্স স্যানস ফ্রন্টিয়ার্স-এমএসএফ)-এর মানবিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ইসরায়েলের প্রবাসী ও ইহুদি বিদ্বেষ দমন বিষয়ক মন্ত্রণালয় রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা গাজা উপত্যকায় এমএসএফ-এর কার্যক্রম বন্ধ করার দিকে এগোচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই অঞ্চলে কর্মরত সব মানবিক সংস্থার জন্য স্থানীয় কর্মীদের তালিকা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এমএসএফ সেই তালিকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংস্থাটিকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের কাজ গুটিয়ে গাজা ত্যাগ করতে হবে।
এর আগে গত ডিসেম্বরে মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছিল, ফিলিস্তিনি কর্মীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না দেওয়ায় এমএসএফ এর পাশাপাশি আরও ৩৭টি সাহায্য সংস্থাকে ১ মার্চ থেকে গাজায় কাজ করতে দেওয়া হবে না। ইসরায়েল অভিযোগ করে আসছে, এমএসএফ-এর দুজন কর্মীর সঙ্গে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এবং ইসলামিক জিহাদের যোগসূত্র রয়েছে। তবে এই চিকিৎসাসেবী সংস্থাটি সেই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে।
রোববার মন্ত্রণালয় দাবি করে, জানুয়ারির শুরুতে এমএসএফ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী কর্মীদের তালিকা হস্তান্তর করবে। তবে প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও সংস্থাটি তালিকা হস্তান্তরের বিষয়ে বিরত থাকে। পরবর্তীতে এমএসএফ জানায়, তারা নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে না, যা তাদের পূর্ববর্তী বক্তব্য ও বাধ্যতামূলক প্রোটোকলের বিরোধী।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী এমএসএফ তাদের কার্যক্রম বন্ধ করবে এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গাজা উপত্যকা ত্যাগ করবে।
এদিকে, গত শুক্রবার তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমএসএফ স্বীকার করেছে যে, একটি ‘ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা’ হিসেবে তারা ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক কর্মীদের নামের তালিকা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছিল।
চিকিৎসা বিষয়ক সাহায্য সংস্থাটি জানায়, ‘বারবার চেষ্টা করার পরেও এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা প্রদানের বিষয়ে আমরা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারিনি। এই নিশ্চয়তাগুলোর মধ্যে ছিল—কর্মীদের তথ্য শুধুমাত্র প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করা হবে এবং এটি সহকর্মীদের কোনো ঝুঁকির মুখে ফেলবে না।’
এমএসএফ আরও জানিয়েছে, এই ফ্রন্টগুলোতে তারা কোনো নিশ্চয়তা পায়নি, তাই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে’ কর্মীদের তথ্য হস্তান্তর করা হবে না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক