রেকর্ড বৃদ্ধির পর স্বর্ণের দামে বড় পতন
আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড উচ্চতা স্পর্শ করার পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়েছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে স্বর্ণ এখনও ১৯৮০–এর দশকের পর সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) স্পট গোল্ডের দাম ১.৩ শতাংশ কমে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৫৩৩০.২০ ডলারে। দিনের শুরুতে ৫৫৯৪.৮২ ডলারের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছোঁয়ার পর স্বর্ণ উল্টো ঘুরে ৫ শতাংশের বেশি কমে সর্বনিম্ন ৫১০৯.৬২ ডলারে নেমে আসে।
ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারস ০.৩ শতাংশ কমে ৫৩১৮.৪০ ডলারে বন্ধ হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
হাই রিজ ফিউচারসের মেটালস ট্রেডিং পরিচালক ডেভিড মেগার বলেন, মূল্যবান ধাতুগুলো সাম্প্রতিক সর্বকালের উচ্চতায় পৌঁছানোর পর নাটকীয় বিক্রি দেখা যাচ্ছে।
তবে চলতি মাসে এখনও স্পট সোনার দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে এবং শুধু এই সপ্তাহেই প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইউবিএস চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকের জন্য স্বর্ণের মূল্য ৬২০০ ডলারের পূর্বাভাস করেছে। যদিও ২০২৬ সালের শেষে দাম কমে ৫৯০০ ডলারে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিপ্টো বাজার থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যন্ত বিভিন্ন উৎস থেকে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে। গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যান বলেন, মূল্যবান ধাতু এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বিনিয়োগকারীরা সবসময় উচ্চ রিটার্নের খোঁজে থাকেন।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও বাজারকে প্রভাবিত করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে পারমাণবিক চুক্তির আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাবের হুমকি দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। ধারণা করা হচ্ছে, জুন মাসে সুদহার কমানো হতে পারে। সাধারণত সুদ কমলে স্বর্ণের মতো সম্পদ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণসমর্থিত এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্টের স্বর্ণ মজুত প্রায় চার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
স্পট সিলভার ২.১ শতাংশ কমে ১১৪.১৪১ ডলারে নেমেছে, যদিও মাসজুড়ে এর দাম ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সরবরাহ ঘাটতি ও জল্পনামূলক বিনিয়োগের কারণে রুপার দাম বাড়ছিল।
প্লাটিনামের দাম ৩.২ শতাংশ কমে ২৬০২.৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা সোমবার ২৯১৮.৮০ ডলারের রেকর্ড ছুঁয়েছিল। প্যালাডিয়ামের দামও ৩.৭ শতাংশ কমে ১৯৯৬.৬৫ ডলারে নেমেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক