রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খোলার ঘোষণা ইসরায়েলের
দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে আগামী রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। তবে গাজার সঙ্গে মিসরের সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথটি কেবল ‘মানুষের সীমিত চলাচলের’ জন্য ব্যবহৃত হবে বলে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফিলিস্তিনি অঞ্চলের বেসামরিক বিষয় তত্ত্বাবধানকারী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা (সরকারি কার্যকলাপ সমন্বয়কারী) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাফাহ ক্রসিং খোলার বিষয়টি হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া মার্কিন মধ্যস্থতাধীন যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ। গত বুধবার গাজায় থাকা শেষ ইসরায়েলি বন্দির (পুলিশ অফিসার রন গভিলি) দেহাবশেষ ফেরত দেওয়ার পর চুক্তির প্রথম পর্যায় সম্পন্ন হয়।
তবে ইসরায়েল সাফ জানিয়েছে, ক্রসিংয়ের ওপর তাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজা থেকে বের হওয়া ও প্রবেশের জন্য ব্যক্তিদের ইসরায়েল থেকে ‘পূর্ব নিরাপত্তা ছাড়পত্র’ নিতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। মিসরের সঙ্গে সমন্বয় করে কেবল যুদ্ধের সময় গাজা ছেড়ে যাওয়া বাসিন্দাদের ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হবে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে একটি করিডোরে অতিরিক্ত স্ক্রিনিং ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
হামাস এক বিবৃতিতে ইসরায়েলকে চুক্তির সমস্ত বিধান বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বিশেষ করে কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই রাফাহ ক্রসিংয়ের উভয় দিক খুলে দেওয়ার দাবি তুলেছে। শুক্রবার হামাস এই চুক্তির নিশ্চয়তাদাতা দেশ— মিসর, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করে চুক্তিতে বাধা সৃষ্টি বন্ধ করে।
হামাস আরও দাবি করেছে, অঞ্চলটি পরিচালনার জন্য সম্প্রতি নিযুক্ত ‘টেকনোক্র্যাটিক ফিলিস্তিনি কমিটি’কে যেন দ্রুত কাজ শুরু করতে দেওয়া হয়।
গাজার প্রায় দুই মিলিয়ন বাস্তুচ্যুত মানুষ বর্তমানে খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয়ের তীব্র সংকটে ভুগছে। তীব্র শীতকালীন ঝড়ের মধ্যে রাফাহ ক্রসিং বন্ধ থাকায় মানবিক সহায়তার প্রবেশপথ সীমিত হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার এই পথটি খুলে দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছে।
যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও গাজাজুড়ে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও হামলায় হতাহতের ঘটনা থামছে না।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৪৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত গাজায় মোট ৭১ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি প্রাণ হারিয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক