যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলা
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গত বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই তা লঙ্ঘন করে হামলা চালাচ্ছে। সর্বশেষ স্থানীয় সময় রোববার (১৮ জানুয়ারি) গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক মানুষের ওপর গুলি, ড্রোন, বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গাজা শহরের দক্ষিণের জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোনের গুলিতে কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি মেয়ে শিশুসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হন।
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী যেসব এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সরে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। গাজা শহরের পূর্বে আল-আহলি আরব হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা জানান, নেতজারিম এলাকায় ইসরায়েলি গুলিতে তিনজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে জানান, একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ওই দলের ওপর গুলি চালানো হয়।
খান ইউনিসের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে চিকিৎসকরা জানান, আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি গুলিতে আরও দুজন আহত হয়েছেন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানান, এক ফিলিস্তিনি যুবক মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর অবস্থায় আছেন।
এদিকে দক্ষিণের রাফাহ এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়েছে এবং উত্তরের জাবালিয়ার পূর্বাংশ ও গাজা শহরের তুফ্ফাহ এলাকায় আর্টিলারি গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের কাছে হেলিকপ্টার থেকে গুলির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ইসরায়েলি নৌবাহিনী খান ইউনিস উপকূলে গোলাবর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা আরবি।
এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে চালানো হলো, যখন হামাস যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠিত ১৫ সদস্যের একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছে। এই কমিটি ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন একটি ‘বোর্ড অব পিস’-এর তত্ত্বাবধানে কাজ করবে এবং গাজার দুই মিলিয়নের বেশি মানুষের জন্য জনসেবা দেওয়ার দায়িত্ব পাবে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও অর্থায়ন ও পরিচালনা পদ্ধতিসহ বহু প্রশ্ন রয়ে গেছে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল ইতোমধ্যে বহুবার লঙ্ঘন করেছে। এতে এখন পর্যন্ত ৪৬০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক হাজার ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েল এখনও গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয় সামগ্রী প্রবেশ কঠোরভাবে সীমিত করে রেখেছে। শীতের মধ্যে প্রায় ২২ লাখ মানুষ অস্থায়ী তাঁবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ইসরায়েলি সামরিক তথ্যমতে, গাজার দক্ষিণ, পূর্ব ও উত্তরের বড় অংশ এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কার্যত পুরো উপত্যকাটিই দখল করে রাখা হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭১ হাজারের বেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
জাতিসংঘের হিসাবে, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং পুনর্গঠনে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক