গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি
দোহায় আয়োজিত ১৭তম আল জাজিরা ফোরামে অংশ নিয়ে বিশ্বনেতা ও জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই ফোরামে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান সহিংসতা ও এর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা মনে করেন, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পতন ত্বরান্বিত করছে এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে। খবর আল জাজিরার।
ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা শেষে ফোরামে যোগ দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘ব্যাপক মাত্রায় বেসামরিক জীবনের ইচ্ছাকৃত ধ্বংস’ ও ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। আরাঘচি সতর্ক করেন যে, বিশ্ব এখন এমন এক জায়গায় যাচ্ছে যেখানে আইন নয়, বরং বলপ্রয়োগই প্রধান হয়ে উঠছে। তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবিলম্বে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাসহ সব ধরনের সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা স্থগিত করার আহ্বান জানান।
ফোরামের এক ফাঁকে আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার বিষয়ে পক্ষগুলো একমত হয়েছে, যা খুব শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে।
যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আরাঘচি বলেন, ইরান শান্তি ও যুদ্ধ উভয় পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত। তবে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘মার্কিন আক্রমণের ক্ষেত্রে ইরান কেবল মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্য করবে, কোনো প্রতিবেশী দেশকে নয়।’
আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান শেখ হামাদ বিন থামের আল থানি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইসরায়েলি দখলদারিত্ব গাজার জনগণকে স্থানচ্যুত করে ও বসতি স্থাপনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা চিরতরে নস্যাৎ করতে চাইছে। তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নিহত সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আল জাজিরা সত্য প্রকাশের জন্য চড়া মূল্য দিচ্ছে।
সোমালিয়ার রাষ্ট্রপতি হাসান শেখ মোহাম্মদ বলেন, গাজা যুদ্ধের উত্তাপ এখন লোহিত সাগরেও ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি ইসরায়েল কর্তৃক ‘সোমালিল্যান্ড’ অঞ্চলের স্বীকৃতির প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও ‘বেপরোয়া’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি বর্তমানে এতটাই দুর্বল যে এখন ‘শক্তিশালীরাই সঠিক’—এই নীতি আইনের জায়গা দখল করে নিচ্ছে।
তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান গাজার পরিস্থিতিকে বিশ্ব রাজনীতির একটি ‘ঐতিহাসিক ভাঙন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, গণহত্যা প্রতিরোধে তৈরি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কাঠামোগতভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। বর্তমান যুদ্ধ কেবল ভৌত যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও বর্ণনার যুদ্ধেও রূপ নিয়েছে। তিনি আঙ্কারার পক্ষ থেকে ‘আঞ্চলিক সমস্যার আঞ্চলিক সমাধানের’ ওপর জোর দেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক