উপসাগরীয় জলসীমায় ৫ জাহাজে হামলা, একজন নিহতসহ বহু নিখোঁজ
ইরানের ড্রোন নৌকা (ইউএসভি) ও সমুদ্র মাইনের ব্যবহারের খবরের মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঁচটি বাণিজ্যিক জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় বুধবার (১১ মার্চ) দিনগত রাতে ইরাকি ও ওমান সংলগ্ন জলসীমায় এই সিরিজ আক্রমণ চালানো হয়, যাতে অন্তত একজন ক্রু সদস্য নিহত এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর আল জাজিরার।
ইরাকের উম্মে কাসর বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করা দুটি জ্বালানি ট্যাঙ্কার—মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ‘সাফেসি বিষ্ণু’ ও মাল্টার পতাকাবাহী ‘জেফাইরোস’—ইরাকি জলসীমার মধ্যেই বিস্ফোরক-বোঝাই মনুষ্যবিহীন নৌকার আক্রমণের শিকার হয়। এতে জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। একজন বিদেশি ক্রু সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ইরাকি কর্মকর্তারা একে তাদের সার্বভৌমত্বের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আগেই সতর্ক করেছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘মায়ুরি নারি’ জাহাজটি প্রণালি অতিক্রম করার সময় প্রজেক্টাইল হামলার শিকার হয়। এর ফলে ইঞ্জিন রুমে আগুন লেগে তিনজন ক্রু সদস্য নিখোঁজ হন।
আইআরজিসির বিবৃতিতে একে সরাসরি ‘ইরানি যোদ্ধাদের দ্বারা গুলি চালানো’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালিতে প্রায় এক ডজন মাইন স্থাপন করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে ২৮টি ইরানি মাইন-বিছানো জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলপথে মাইন বিছানোর কঠোর প্রতিফলন ইরানকে ভোগ করতে হবে।
এছাড়া জাপানের ওয়ান ম্যাজেস্টি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল-খাইমাহ উপকূলে নোঙর করা অবস্থায় প্রজেক্টাইল আঘাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের স্টার গুইনেথ দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে নোঙর করা অবস্থায় হোল্ড এলাকায় আঘাত পেয়েছে, তবে ক্রুরা নিরাপদ আছেন।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। নিরাপত্তার অভাবে মার্কিন নৌবাহিনীও এই মুহূর্তে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সামরিক এসকর্ট প্রদানের অনুরোধ গ্রহণ করছে না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক