রুশ জাহাজের ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে অভিযুক্ত করল ফ্রান্স
রাশিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহণে লিপ্ত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে অভিযুক্ত করেছে ফ্রান্স।
আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) ফরাসি প্রসিকিউটরদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য জানিয়েছে। মূলত জাহাজে সঠিক জাতীয় পতাকা প্রদর্শন না করা এবং নথিপত্রে গরমিলের অভিযোগে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
৫৪ বছর বয়সী ভারতীয় ক্যাপ্টেন ‘গ্রিঞ্চ’ নামক ২৪৯ মিটার দীর্ঘ একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের দায়িত্বে ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভূমধ্যসাগরে স্পেন ও উত্তর আফ্রিকার মাঝামাঝি আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ফরাসি নৌবাহিনী জাহাজটি জব্দ করে।
বর্তমানে জাহাজটি দক্ষিণ ফ্রান্সের মার্সেই শহরের কাছে ‘ফস-সুর-মের’ বন্দরে কড়া পাহারায় নোঙর করে রাখা হয়েছে। জাহাজের বাকি নাবিকরাও সবাই ভারতীয় নাগরিক। তারা জাহাজের ভেতরেই অবস্থান করছেন।
ফরাসি আইন অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা ছাড়া জাহাজ চালানো বা ভুয়া পতাকা (এ ক্ষেত্রে কমোরোসের পতাকা) ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্যাপ্টেনের সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি তাকে তিন বছর পর্যন্ত ফরাসি জলসীমায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।
পশ্চিমা দেশগুলো ও জি৭ রাশিয়ার ওপর যে তেলের মূল্যসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, তা লঙ্ঘন করতেই রাশিয়া এই ধরনের পুরনো ও বিমাবিহীন ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রিঞ্চ জাহাজটি যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর তালিকায় এটি ‘কার্ল’ নামে নথিভুক্ত।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসেও ফ্রান্স ‘বোরাকাই’ নামক আরেকটি সন্দেহভাজন রুশ জাহাজ জব্দ করেছিল। সেই জাহাজের চীনা ক্যাপ্টেনের বিচার আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক