‘বন্ধুত্বের প্রতীক’ নিয়ে গেল চীন, ৫০ বছর পর পাণ্ডাশূন্য জাপান
দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো পাণ্ডাশূন্য হতে যাচ্ছে জাপান। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) টোকিওর উয়েনো চিড়িয়াখানা থেকে দুই জনপ্রিয় পাণ্ডা—শাও শাও ও লেই লেইকে তাদের জন্মভূমি জাপান থেকে চীনের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এশীয় দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বাড়তে থাকা কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বিদায় জাপানি ভক্তদের জন্য অত্যন্ত বেদনার হয়ে দাঁড়িয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
আজ ৪ বছর বয়সী যমজ পাণ্ডা শাও শাও ও লেই লেইকে ট্রাকযোগে নারিতা বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে তারা ফ্লাইটে চীনে পৌঁছাবে। গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) তাদের শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন দর্শনার্থীরা। লটারির মাধ্যমে বিজয়ী ৪ হাজার ৪০০ জন জাপানিকে এই সুযোগ দেওয়া হয়। এছাড়াও সুযোগ না পাওয়া হাজারো ভক্ত চিড়িয়াখানার বাইরে ভিড় করেছিলেন প্রিয় প্রাণীদের শেষ বিদায় জানাতে।
পাণ্ডাদের এই আকস্মিক ফেরার ঘোষণার পেছনে তাইওয়ান ইস্যুকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত নভেম্বরে পার্লামেন্টে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাইওয়ানে কোনো হামলা হলে জাপান সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে। এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে বেইজিং জাপানে নিযুক্ত তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা জারি করে। একই সঙ্গে বিরল খনিজ রফতানি সীমিত করার পদক্ষেপ নেয়।
১৯৭২ সালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রতীক হিসেবে জাপানকে প্রথম পাণ্ডা উপহার দিয়েছিল চীন। এরপর থেকে দীর্ঘ ৫ দশকে প্রাণীটি জাপানে বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
জাপানি সংবাদমাধ্যম ‘আসাহি শিমবুনের’ এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ জাপানি নাগরিক চীনের সাথে নতুন করে পাণ্ডা ভাড়ার চুক্তিতে যাওয়ার বিপক্ষে মত দিয়েছেন। মাত্র ২৬ শতাংশ মানুষ নতুন পাণ্ডা আনতে আগ্রহী। এদিকে অর্থনীতিবিদদের মতে, উয়েনো চিড়িয়াখানায় পাণ্ডা না থাকার ফলে জাপানের পর্যটন খাতে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ১৩৫ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাণ্ডা ফিরিয়ে নেওয়া চীনের ‘সফট পাওয়ার’ ব্যবহারের একটি অংশ। সম্পর্কের টানাপোড়েন চললে চীন প্রায়ই পাণ্ডা ফিরিয়ে নেয়। আবার সম্পর্ক উন্নত হলে পাণ্ডা ফিরে আসার পথও খুলে যায়।
জাপানে জন্মগ্রহণ করলেও পাণ্ডাদের শেষ ঠিকানা কেন চীন— এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই আসে। বাস্তবতা হলো, বিশ্বের যেখানেই জায়ান্ট পাণ্ডার জন্ম হোক না কেন, আইনগতভাবে তাদের মালিকানা চীনের কাছেই থাকে। জাপানসহ বিভিন্ন দেশের চিড়িয়াখানায় থাকা পাণ্ডারা মূলত চীনের সঙ্গে করা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ধার বা ভাড়ায় আনা প্রাণী।
এই চুক্তি অনুযায়ী, বিদেশে থাকা পাণ্ডাদের প্রজননের ফলে জন্ম নেওয়া শাবকরাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চীনের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। সাধারণত নির্দিষ্ট সময়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুই থেকে চার বছর বয়স পূর্ণ হলে এসব পাণ্ডাশাবককে চীনের প্রজনন ও সংরক্ষণ কেন্দ্রে ফিরিয়ে নিতে হয়। এর উদ্দেশ্য শুধু মালিকানা রক্ষা নয়, বরং বৈজ্ঞানিকভাবে পাণ্ডার বংশধারা নিয়ন্ত্রণ ও জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক