ভালোবাসা দিবসে গাড়ি থেকে উদ্ধার প্রেমিক-প্রেমিকার মরদেহ
ভালোবাসা দিবসে ভারতের উত্তর প্রদেশের নয়ডায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। একটি গাড়ির ভেতর থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তরুণ ও তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে ধারণা করা হলেও নিহতের পরিবার একে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেছে। খবর এনডিটিভির।
ঘটনাটি ঘটেছে নয়ডার সেক্টর ৩৯ থানা এলাকায়। স্থানীয়রা গাড়ির ভেতর থেকে গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি তালাবদ্ধ গাড়ির ভেতর থেকে ২৬ বছর বয়সী রেখা ও ৩২ বছর বয়সী সুমিতের নিথর দেহ উদ্ধার করে। গাড়ির ভেতর থেকে একটি পিস্তল ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পিস্তলটি সুমিতের হাতে ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত রেখা নয়ডার সেক্টর ৫৮ এলাকার বাসিন্দা ও সুমিত দিল্লির ত্রিলোকপুরীর বাসিন্দা ছিলেন। তারা গত ১৫ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। উভয়ের পরিবারই বিষয়টি জানতেন। গত বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। এ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, সুমিত আত্মহত্যার আগে হোয়াটসঅ্যাপ একটি মেসেজ রেখে গেছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি সুমিত, আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি। এর জন্য রেখা দায়ী। কারণ সে ১৫ বছর আমার সাথে প্রেম করে এবং বিয়ের প্র তিশ্রুতি দিয়ে এখন অন্য কাউকে বিয়ে করতে যাচ্ছে। রেখা আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাই আমি এই পথ বেছে নিলাম।’
তবে সুমিতের পরিবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সুমিতের ভাইয়ের দাবি, ‘জাতের’ মিল না থাকায় রেখার পরিবার তাদের সম্পর্ক নিয়ে কটাক্ষ করত। এছাড়া ঘটনার আগে সুমিতের পরিবার কিছু আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে হুমকিও পেয়েছিল।
সুমিতের এক আত্মীয় জানান, গাড়িটি রেখাদের গ্রামের খুব কাছে পাওয়া গেছে। যা অত্যন্ত সন্দেহজনক। তাদের মতে, এটি একটি ‘বর্ণবৈষম্যের কারণে ঘটানো হত্যাকাণ্ড’ হতে পারে।
নয়ডা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। পরিবারের আনা হত্যার অভিযোগ এবং সুসাইড নোট— উভয় দিক বিবেচনা করেই তদন্ত চালানো হচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক